ঝিনাইদহঃ জেলার কালীগঞ্জ শহরের কোটচাঁদপুর রোডের মমতাজ মেডিসিনি সেন্টারের নিয়মিত পশু চিকিৎসক জামাল আহমেদ মিলন। তিনি পেশায় একটি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক তবে নিয়মিত পশু চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তার পশু চিকিৎসায় অনেকেই ক্ষুতিগ্রস্থ হয়েছেন অভিয়োগ উঠেছে। এদিকে জামাল আহমেদ মিলন বলেন তিনি চিকিৎসক না শুধু পরামর্শ দেন।
দেখা গেছে, উপজেলায় পশু চিকিৎসকরা ৫-৬টি মোটরসাইকেলে কমপক্ষে ১০-১২ জনের একটি দল বেরিয়ে পশু চিকিৎসা দিতে সেবা প্রত্যাশীর বাড়ি হাজির হন। এরপর শুরু হয় গবাদি পশু চিকিৎসা। অধিকাংশ চিকিৎসায় গবাদি পশু ভাল না হওয়ার অভিযোগ আছে। চিকিৎসায় গবাদিপশু ভাল না হলেও সম্পূর্ন বিল পরিশোধ করতে হয় সেবা প্রত্যাশির। এমন অনেক অভিযোগ আছে জামাল আহমেদ মিলনের বিরুদ্ধে।
আরো জানা গেছে, জামাল আহমেদ মিলন এর পশু চিকিৎসার সনদ নেই বলে জানান তিন নিজেই। বাংলাদেশ ভেটরেনারী কাউন্সিলের সনদ নেই তার। ডিভিএম ডাক্তার না হয়েও তিনি শহরের কোলা রোডে অবস্থিত লাইফ সাইন্স ভেটরেনারী ট্রেনিং ইনস্টিউটে প্রশিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালনও করেছেন।
ইতিহাসের শিক্ষকের ভেটরেনারীর কোর্সের ক্লাস নেওয়ারে ব্যাপারে জানতে চাইলে লাইফ সাইন্স ভেটরেনারী ট্রেনিং ইনস্টিউটের সত্বাধিকারী বিশ^াস রাজিব কিশোর জানান, স্যার তো প্রথম থেকেই এ কোর্সের সঙ্গে আছেন। তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন।
কালীগঞ্জের চাচড়া গ্রামের মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার গরুর সামান্য জ্বর হওয়ায় আমি মিলন ভাইকে জানাই। সে চিকিৎসা করার পর আমার গরু আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর উপজেলা পশু হাসপাতালে যাই।
আরেক ভূক্তভোগী চাদবা এক্তারপুর গ্রামের ইমামুল ইসলাম বলেন, আমার ছাগল যন্ত্রনায় ছটফট করায় আমি মিলন স্যারকে বলি, তখন মিলন স্যার পলাশ নামের এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে আমার ছাগলের অস্ত্রপচার করে। রক্ত বন্ধ না হওয়ায় সে ব্যক্তি দ্রুত চলে যায়। পরে আমি ছাগল নিয়ে পশু হাসপাতালে নিয়ে যাই।
অভিযোগের ব্যাপারে জামাল আহমেদ মিলন বলেন, ‘আমি চিকিৎসক নই, আমি পরামর্শক। আমি শিক্ষক আমার ভেটরেনারী সার্টিফিকেট নেই, আমি ভেটরেনারী কোনো কোর্সের পাঠদানও করিনা। মোবাইলে এত কথা বলার দরকার নেই। আপনি আমার ভাইয়ের দোকানে আসেন, সরাসরি কথা হবে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজাউল করিম জানান, কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সনদ বিহীন পশু চিকিসকের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারির অভিযোগ পেলে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৩/০৩/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
