এইমাত্র পাওয়া

একজন বাবুর্চী দিয়েই চলছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম

গাজীপুরঃ  একজন বাবুর্চী দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে চলছে গাজীপুরের নীলের পাড়া সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম। শহরের নীলের পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অবস্থিত এ শিক্ষা কার্যক্রম চারজন জনবলের পদ থাকলেও শুধুমাত্র একজন বাবুর্চী ছাড়া বাকী পদগুলো শূন্য পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে দিনের পর দিন ধরে। প্রতিষ্ঠানটিতে এছাড়াও রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর জয়দেবপুর পূবাইল আঞ্চলিক সড়কের পূর্বপাশে নীলের পাড়া এলাকায় অবস্থিত নীলের পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পাশে ৫ শতাংশ জায়গার উপরে ১৯৯৮ সালে সমাজ সেবা অধিদপ্তর এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন। সাড়া দেশের প্রতিটি জেলায়ই এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান আছে বলে জানা গেছে।

এখানে ১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি ও আবাসিকভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তাদের লেখাপড়া ও তিনবেলা খাবার পরিবেশনের দায়িত্বও সমাজসেবা অধিদপ্তরের। গাজীপুরের এই প্রতিষ্ঠানটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের শহর সমাজ সেবা কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক।

তিনি জানান, প্রতিটি শিক্ষার্থীর তিন বেলা খাবার ও জালানী সরবরাহের জন্য প্রতিদিন ১০০ টাকা সরকারী বরাদ্দ রয়েছে। এ টাকা দিয়েই শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়।

কিন্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানান, তাদেরকে যে খাবার পরিবেশন করা হয়, তা পর্যাপ্ত না। তাদেরকে বেশীরভাগ সময়ই বাহির থেকে খাবার কিনে আনতে হয়। বাড়ী বা বাসা থেকে বাবা মা অথবা অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে প্রয়োজন মিটাতে হয়।

প্রতিষ্ঠানের অস্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী মোঃ ইব্রাহিম। সে জানায়, জন্ম প্রতিবন্ধী ছোটবেলায় বাবা মা মারা যাবার পর ভাই বোনের মাধ্যমে পড়ালেখা করার জন্য এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেয়।

মুন্সীগঞ্জ থেকে এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী মোঃ হাবিবুর রহমান জানায়, আমরা যে ভবনে অবস্থান করছি, তাতে বড় ধরনের ফাটল রয়েছে। যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে। আমাদেরকে অনেক ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়।

এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমি গত দুই মাস হল এখানে জয়েন করেছি। এখানে চারটা পদে মধ্যে তিনটা পদই শূণ্য। রিসোর্স টিচার, হাউজ পেরেন্ট কাম টিচার, নৈশ প্রহরীর এই তিনটি পদই শূণ্য, বর্তমানে শুধুমাত্র বাবুর্চী দিয়েই চলছে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।

তিনি খাবারের বিষয়ে বলেন, নির্দিষ্ট মেনু অনুযায়ীই খাবার পরিবেশন করা হয়। তবে তিনি প্রতিটি ছাত্রের জন্য প্রতিদিন একশ টাকা বরাদ্দকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করেন। ভবনের ফাটলের বিষয়ে তিনি বলেন, গণপূর্ত বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি তারা ব্যবস্থা নিবেন।

জেলা সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক আনোয়ারুল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে বরাদ্দের বিষয়ে জানান, শুধু এ প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও একই বাজেট বরাদ্দ।

তিনি বলেন, এটা কোনভাবেই পর্যাপ্ত বলে মনে করি না। এটা বাড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। শূণ্য পদের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটার জন্য আমরা কথা বলেছি, আমাদের সারা দেশেই লোকবলের সংকট আছে। বর্তমানে বাবুর্চী টেককেয়ার করে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৫/০৩/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.