এইমাত্র পাওয়া

চার বছরেও সুরাহা হয়নি ৪১তম বিসিএস নিয়োগ কার্যক্রম

ঢাকাঃ  ‘পত্রিকায় পাতায় রোজ চোখ রাখি, কবে ৪১তম বিসিএস নিয়ে নতুন খবর আসবে। কবে জানতে পারবো আমাদের গেজেট প্রকাশের তারিখ। এভাবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সাত মাস চলে গেল। ইতিমধ্যে ৪৩তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলও প্রকাশিত হয়েছে। নতুন করে ৪৬তম বিসিএসের তারিখ ঘোষণা করেছে পিএসসি। কিন্তু আমাদের বিষয়টি সুরাহা হচ্ছে না। এতে আমরা হতাশায় ভুগছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৪১তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলের অপেক্ষায় থাকা এক তরুণ এমনটিই বলেছেন।

তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম ৫ লাখ ৩ হাজার ৩৩৩টি পদ শূন্য। আমাদের ২ হাজার ৫২০ জনের নিয়োগ এখনও সমাধান করতে পারেনি। তাহলে বিশাল অঙ্কের এই নিয়োগ সমাধান করতে কত সময় লাগাবে পিএসসি?

ওই তরুণ আরও বলেন, আমরা জানি না কবে গেজেট প্রকাশিত হবে। একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়ে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা কতটা পীড়াদায়ক, তা কেবল ভুক্তভোগীই বুঝতে পারে। বিসিএসের এই দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া আমাদের মতো উচ্চশিক্ষিত বেকারদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করে।’

এদিকে ৪৬তম বিসিএস নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করার পরিকল্পনা করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কিন্তু প্রথম ধাপ প্রিলিমিনারিতেই তারা ধাক্কা খেয়েছে। তাদের নির্ধারিত ৯ মার্চের পরিবর্তে ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৬ এপ্রিল। পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের কারণে এ বিসিএসের শুরুতেই জটিলতা তৈরী হয়েছে। তা কাটানোর জন্য কমিশন চেষ্টা করছে। তবে বিকল্প চিন্তা ছাড়া খুব সহজে বিষয়টি সমাধান হবে না।

পিএসসি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এতে আবেদন করেন চার লাখের বেশি প্রার্থী। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে কিছুটা বিলম্বিত হয় এই বিসিএসের নিয়োগ কার্যক্রম। করোনার প্রকোপ কমার পর ২০২১ সালের ১৯ মার্চ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া হয়। ২০২১ সালের ২ আগস্ট প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হন ২১ হাজার ৫৬ জন।

একই বছরের ২৯ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হন ১৩ হাজার প্রার্থী। ২০২৩ সালের ২৬ জুন শেষ হয় ৪১তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা। ভাইভা শেষে গত বছরের ৬ আগস্ট চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। ফলে ২ হাজার ৫২০ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। সুপারিশের সাত মাসেও গেজেট প্রকাশিত হয়নি। এতে হতাশায় ভুগছেন অনেকেই। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হবে বলে জানা গিয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব প্রতিবেদন এসে পৌঁছায়নি। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে বিষয়টি সুরাহা হতে পারে। গুরুত্ব দিয়েই নিয়োগ কার্যক্রম চলছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.