চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রামে এসএসসি পরীক্ষার প্রথমদিনে ৪০ জন পরীক্ষার্থী দেরিতে প্রশ্নপত্র পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের একটি কক্ষে ২০ থেকে ২৫ মিনিট দেরিতে প্রশ্নপত্র পাওয়ার অভিযোগ করে শিক্ষার্থী অভিভাবকরা।
তাদের অভিযোগ দেরিতে প্রশ্নপত্র দিলেও পরীক্ষার শেষ হওয়ার পর উত্তরপত্র নিয়ে নেয়া হয়। তবে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানানোর পর ওই শিক্ষার্থীদের সময় বাড়িয়ে দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হয় বলে জানান প্রধান শিক্ষক।
এজন্য কক্ষে দায়িত্ব পালন করা দুজন পর্যবেক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড বলছে, দেরিতে প্রশ্নপত্র দেয়া হলেও উত্তরপত্র দেরিতে নেয়া হয়। যাতে শিক্ষার্থীরা দেরিতে প্রশ্নপত্র পাওয়া কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ এম এম মুজিবুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকালে সময়ের আলোকে বলেন, কলেজিয়েট স্কুলের একটি হলে খাতা দেরিতে দেওয়ার অভিযোগ শুনেছি। এ ব্যাপারে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা হয়েছে। তাকে বলেছি বিষয়টি নিয়ে লিখিতভাবে জানাতে। কারো গাফিলতি প্রমাণ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর ওই শিক্ষার্থীদের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেজন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদের সময় বাড়িয়ে দিই। তারা ঠিকঠাকভাবে পরীক্ষা শেষ করেছে। দেরিতে প্রশ্নপত্র দেয়ার বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারো দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে দুই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষার প্রথমদিন বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরুর পর শিক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র দেওয়া হয়। এটির জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ মিনিট সময়। বহুনির্বাচনী পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সৃজনশীল বা রচনামূলক পরীক্ষা হয়। দুটি পরীক্ষার মাঝখানে কোনো বিরতি না থাকলেও কলেজিয়েট স্কুলের ওই কক্ষে দুজন পর্যবেক্ষক বহুনির্বাচনী পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের রচনামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেননি। রচনামূলক প্রশ্নপত্র দিতে অন্তত ২০ থেকে ২৫ মিনিট দেরি হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীরা বার বার কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলেও তারা নির্বিকার ছিলেন। পরে পাশের আরেকটি কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে দেখে বেলা ১১টা ২ মিনিটে শিক্ষার্থীদের রচনামূলক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। কিন্তু পরীক্ষা শেষের নির্ধারিত সময় দুপুর ১টায় উত্তরপত্র নিয়ে ফেলা হয়। এ সময় অনেক পরীক্ষার্থী সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। পরে পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি অভিভাবকদের অবহিত করে। এরপর উপস্থিত অভিভাবকরা দ্রুত ছুটে যান কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের কক্ষে। প্রধান শিক্ষক ওই কক্ষে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করা একই স্কুলের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ এবং আলকরণ নূর আহমদ সিটি করপোরেশন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিমকে ডেকে বিষয়টি জানতে চান।
এসময় দুই শিক্ষক দেরিতে রচনামূলকের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সময় বাড়িয়ে দিয়ে ফের পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৫/০২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
