রাজশাহীঃ জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়তে শুরু করে জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তবে, সর্বশেষ চারদিনে সংখ্যাটি কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে আবাসিক শিক্ষার্থীর থেকে মেসে থাকা অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন এই রোগে। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
মেডিকেল সেন্টারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি থেকে থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লক্ষণজনিত কারণে ২৪২ জনের পরীক্ষা করে ১১০ জনের জন্ডিস শনাক্ত হয়। এ সময় দৈনিক সংক্রমণের হার ছিল প্রায় ৮ জন। তবে, সর্বশেষ চারদিনে ১১০ জনের পরীক্ষা করে জন্ডিস শনাক্ত হয় ২৭ জনের। ফলে এই চারদিনে দৈনিক সংক্রমণের হার নেমে হয়েছে প্রায় ৭ জন।
সর্বশেষ চারদিনের তথ্য থেকে আরও জানা যায়, ৪, ৫ ও ৭ ফেব্রুয়ারি জন্ডিস শনাক্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র একজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকেন। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বা ছাত্রাবাসে থাকেন। ৬ ফেব্রুয়ারি জন্ডিস শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে সবাই ক্যাম্পাসের বাইরে মেসে থাকেন। চারদিনে জন্ডিস শনাক্ত হওয়া আবাসিক তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ড. শামসুজ্জোহা হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল এবং মতিহার হলে থাকেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসকরা জানান, হেপাটাইটিস এ ভাইরাস লিভারে সংক্রমণের কারণে জন্ডিস হয়ে থাকে। হেপাটাইটিস এ মূলত ছোঁয়াচে এবং পানিবাহিত একটি রোগ। এই ভাইরাসের অস্তিত্ব রয়েছে এমন দূষিত পানি ও খাবার থেকে এটি ছড়ায়। খাবার সঠিকভাবে তৈরি বা রান্না না করলে এবং পরিচ্ছন্নভাবে পরিবেশন না করলেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। জ্বর, বমি, ধূসর রঙের মল, চোখ ও জিহ্বা হলুদ হয়ে যাওয়া, ক্লান্তি, পেটে যন্ত্রণা, গিটে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি হলো এই রোগের প্রধান উপসর্গ।
এই রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ডা. তবিবুর রহমান শেখ বলেন, ‘বিশুদ্ধ পানি পান করা, সঠিকভাবে রান্না করা এবং পরিচ্ছন্নভাবে পরিবেশিত স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। হেপাটাইটিস এ সংক্রমণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তাই, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করায় শ্রেয়। এটি প্রতিরোধ করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো টিকা গ্রহণ।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ বলেন, ‘জন্ডিস বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে, আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত অধিকাংশ শিক্ষার্থী মেসে থাকে। এর মানে হলো, আমাদের ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রকোপটা খুব একটা বেশি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আত্মসচেতন হওয়া জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ খাবার ও পানি করতে সচেতন করার জন্য আমরাও মাইকিং এবং লিফলেট বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছি। খাবারের দোকানগুলোতে মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী সমস্যাই পড়লে তাৎক্ষণিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান করছি।’
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে রাবির মো. মুরাদ আহমেদ মৃধা নামে এক ছাত্র জন্ডিস ও কিডনি বিকল হয়ে মারা গেছেন। তিনি গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার কাটাস্কোল এলাকায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এই শিক্ষার্থীও মেসে থাকতেন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৮/০২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
