মানিকগঞ্জঃ জেলার সাটুরিয়ায় মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং সেন্টার (ম্যাটস) স্কুলে ছাত্রছাত্রী থাকলেও নেই শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে বসার নেই আসবাবপত্র। প্রতিষ্ঠানটিতে মানিকগঞ্জ জেলার সাতটি উপজেলা থেকে চারজন খণ্ডকালীন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেয়া হলেও তারা যোগদান করেননি। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. ওসমান গনিকে। জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে প্রথম ব্যাচে শিক্ষার্থী ভর্তি করে অনানুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস শুরু করা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রথম ব্যাচে ২৬ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হন। একাডেমিক ভবনে গিয়ে দেখা যায়, একজন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। তিনি মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কাউছার হোসেন। এ সময় তিনি জানান, সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে কয়েকটি ভবন নির্মাণ করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে।
কিন্তু জনবল সংকট ও বাজেট এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা না থাকায় বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়ার জন্য ডা. রাসেল হোসেন, ডা. নুসরাত জাহান মৌরিন ও ডা. সালসাবিল অরর্চিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ডা. রাসেল হোসেন নিয়োগ দেয়ার পর এখানে যোগদান করেননি। ডা. নুসরাত জাহান মৌরিন যোগদান করে দু’বছরের জন্য শিক্ষাকালীন ছুটি কাটাচ্ছেন। ডা. সালসাবির হোসেন অরর্চি তিনি যোগদান করেই বিদেশ চলে গেছেন। ছাত্রী বিভা আক্তার বলেন, ছাত্রী হোস্টেলে নেই কোনো নিরাপত্তা। পানির ব্যবস্থাও ভালো না। পানি কিনে খেতে হয়। ক্যান্টিন থাকলেও আমাদের রান্না করে খেতে হয়। প্রতিদিন চারটি ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও ১-২টি ক্লাস হচ্ছে। প্রথম ব্যাচে ২৬ জনের আসনের বদলে রয়েছে ২৫ জনের আসন। আমরা এখানে চরম নিরাপত্তা ও উৎকণ্ঠায় ভুগছি। মেহেদি হাসান ও নাজমুল হক বলেন, প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বসার আসন নেই। ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ব্যাচে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হবে ফেব্রুয়ারি মাসে। তাদের ক্লাস শুরু হবে মার্চে। ক্লাস রুম আছে। নেই বসার আসবাবপত্র। নেই শিক্ষক ও জনবল।
এভাবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। একজন নিরাপত্তা গার্ড দিয়ে এত বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কীভাবে দেবে। শিক্ষার্থীরা বলেন, বহিরাগতরা ভেতরে প্রবেশ করে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে। ছাত্রী হোস্টেলের পেছনের রাস্তায় বখাটেরা মেয়েদের বাজে মন্তব্য করে থাকে। অধ্যাক্ষ ডা. মো. ওসমান গনি বলেন, এখানে কোনো বাজেট নেই। ফলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আবাসিক মেডিকেল ডাক্তারদের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ধরে এনে ক্লাস করানো হচ্ছে। আবার যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারাও আসেন না। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জনবল ও বাজেট চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি জানান।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৭/০১/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
