ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বই ২০২৪ সালে ৭ম শ্রেণির জন্য পাঠ্য। বইয়ের ৩৯ পৃষ্ঠায় শরীফা। বইয়ের শুরুটা-
নতুন পরিচয়
একটা পরিচয় হল শ্রেণি কক্ষে। শরীফা বললেন, ‘যখন আমি তোমাদের ক্লাসে পড়তাম তখন আমার নাম ছিল শরীফ আহমেদ। আনুচিং অবাক হয়ে বলল, আপনি ছেলে থেকে মেয়ে হলেন কী করে? শরীফা বললেন, আমি তখনও যা ছিলাম এখনও তাই আছি। নামটা কেবল বদলেছি। ওরা শরীফার কথা যেন ঠিকঠাক বুঝতে পারল না।’ এই অংশটুকু বই থেকে নেয়া।
আমি বুঝতে পারিনি এমন ইতিহাস জানা আমাদের বাচ্চাদের কী দরকার? এতে সন্তানটির কী উপকার হবে? পরের অংশে সে পরিবারের সাথে থাকে না ৩৯ পৃষ্ঠায় তা বলেছে। বলল ‘আমার পরিবার এখানেই আছে। আমি তাদের ছেড়ে দূরে গিয়ে অচেনা মানুষদের সঙ্গে থাকতে শুরু করেছি। এখন সেটাই আমার পরিবার।’
প্রথম অংশে কিভাবে মগজ-আর দ্বিতীয় অংশে কিভাবে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবন যাপন করা যায় তার ইঙ্গিত।
তারপর শরীফার পোশাক পছন্দের বিষয়টি আসল। সে ছেলে কিন্তু মেয়েদের পোশাক পরতে ভালবাসত!! পরিবার তা দিত না, অনেক সময় মারও জুটত বলে শরীফা বলে। তারপর মেয়েদের সাথে খেলতে ভালবাসত কিন্তু মেয়েরা তাকে খেলায় নিত না এমনও বলা হল। তারপর একদিন তৃতীয় লিঙ্গের একজনের সাথে পরিচয় হওয়ার গল্প জুড়ে দেয়া হল। বইয়ের (৩৯-৪৮) পৃষ্ঠা পড়ার পর আমার মনে হল কিছু বিষয় এমন ভাবে আনা হল-যেই বিষয় গুলো এভাবে না আসলেই ভাল হত।
বলা হচ্ছে এখানে তৃতীয় লিঙ্গের মানূষকে জোরপূর্বক ভাবে তাদের বিভিন্ন অধিকার গুলো তুলে ধরা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রতি ভেদাভেদ সৃষ্টি করে দেওয়া হচ্ছে- এমনটাই বলছেন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা। আবার অনেকে বলছে এখানে সমকামিতাকে তুলে ধরা হচ্ছে-এই বিষয় নিয়ে প্রচুর সমালোচনা গত কয়েকদিন।
সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবই ইতিহাস ও সামিজক বিজ্ঞানের একটি অধ্যায়ে ‘শরীফার গল্প’ নিয়ে ওঠা বিতর্ক ও সমালোচনার বিষয়ে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। মঙ্গলবার তিনি সচিবালয়ে বলেন, আলোচিত শরীফার গল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এতে বিষয়টি উপস্থাপন করতে গিয়ে কোনো বিভ্রান্তি বা বিতর্ক থাকলে তা সংশোধন করা হবে। প্রশ্ন হল এমন বিষয় গুলো কেন বইয়ে আনতে হবে? আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র এখনও একটি সঠিক মূল্যবোধের উপর দাঁড়িয়ে আছে। সেটিকে কে, কারা, কেন নষ্ট করতে চাইছে? শিক্ষামন্ত্রীর আরো সুস্পষ্ট করে বলা দরকার, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে?
শিক্ষকতায় ভালবেসে এসেছিলাম। আজকাল প্রায়ই হতাশ হই। কেন? জীবনের পুরোটা সময় নষ্ট করেছিলাম? শিক্ষকরা আজ কতটা অসহায় সেটি বোঝানো দায়। কত ধরনের অনৈতিকতার সাথে শিক্ষকদের পরিকল্পিতভাবে জড়ানো হচ্ছে তার কয়টি বা বলা যাবে? কয়টি বা নজরে আসে? আমাদের রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তাদের সন্তানরা আমাদের এই শিক্ষার ধারে কাছেও নাই।
সৃজনশীল পদ্ধতি ১০ বছরে ডুবে গেল, কেন গেল? জানি না। কোথায় ক্রটি ছিল। তা থেকে কিভাবে বের হব। করোনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে পড়ালেখা ডুবে গেল?? সেটি থেকে উত্তরণ কিভাবে হল, তাও জানা নেই। এখন শুরু হল ভিন্ন ধরনের পড়ালেখা। বাস্তবতা হল নতুন ধরনের, মোটেও অস্বীকার করব না। কিন্তু কিভাবে সেটি, কারা করবে? কাদের জন্য? কোন নির্দেশনা নাই।
বছরের ১মাস শেষ এখনও অনেক ক্লাসে বই আসেনি। যা এসেছে তার অধিকাংশই বানান, মান, বিষয়বস্তু এবং শরীফ থেকে পুরোটাই শরীফ।
মন্তব্য-বর্তমান পড়ালেখা যারা করছেন(শিক্ষার্থী), যারা করাচ্ছেন(শিক্ষক) আমার আশংকা তারা সকালে-‘শরীফ হয়ে শুরু করবে, দিন শেষে শরীফা হয়েই রাস্তুায় রাস্তায় ঘুরবে।’
আসুন দোয়া করি, যারা এমন একটি ব্যবস্থা উপহার দিলেন, যারা এই বই গুলো লিখার, সম্পাদনার সাথে জড়িয়ে থাকলেন তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হউক।–হবেই।।
লেখক-ড. মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
