এইমাত্র পাওয়া

শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল জনজীবন

শিক্ষাবার্তা ডেস্ক।।

দেশের উত্তরাঞ্চলে হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা প্রতিদিনই বাড়ছে। সারা দিনেও সূর্যের মুখ না দেখা যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

সুন্দরগঞ্জে জনজীবন কাবু:
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, তীব্র শীত ও হিমেল হাওয়ায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বত্রই কাবু হয়ে পড়েছে মানুষের জীবনযাত্রা।
গত পাঁচ দিন ধরে উত্তর থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বেড় হতে পারছেন না। খেটে খাওয়া মানুষজন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কাহিল হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ শিশুরা। দিনের বেলায় সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাও রাস্তা-ঘাটে যানবাহন চলাচল করছে আলো জ¦ালিয়ে। বোরো বীজতলাগুলো ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করছে। বিশেষ করে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষ তীব্র শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন। গরম কাপড়ের অভাবে তারা কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘরে বসে দিন পাড়ি দিচ্ছেন। অনেকে খড়কুটা জ¦ালিয়ে শীতের ঠাণ্ডা নিবারণের চেষ্টা করছেন। উপজেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা বিতরণ করা হচ্ছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিফ মণ্ডল জানান, শীতার্তদের জন্য অতিরিক্ত গরম কাপড়ের চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

নীলফামারীতে বইছে শৈত্যপ্রবাহ:
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, তিন দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে উত্তরের জেলা নীলফামারীতে। সেই সাথে উত্তরের হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এ জেলার দরিদ্র মানুষ। মেঘলা আকাশ আর কুয়াশার কারণে তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি এই জেলায়। ভোর রাত থেকে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষজন বাইরে বের হতে না পেরে পড়েছেন দুর্ভোগে। এ দিকে ঘন কুয়াশার কারণে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ লোকমান হোসেন জানান, বুধবার সকাল ৬টায় নীলফামারীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীতে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গা ও দামুড়হুদা সংবাদদাতা জানান, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস চুয়াডাঙ্গায়। গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করেন আবহাওয়া অধিদফতর। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীতে কাঁপছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলার মানুষরা। সকালের সূর্যের দেখা মিলছে দুপুরে। শীত আর কুয়াশায় বিপাকে পড়েছে এ জেলার খেটে খাওয়া মানুষ। পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। কোল্ড ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু, বয়োবৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ। চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাহাসান জানান, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। বুধবার সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়।

পঞ্চগড়ে মানবেতর জীবন:
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশা, কনকনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতভর বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়েছে। গত দুই দিন ধরে কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি। তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ১২ ডিগ্রি। আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে এসেছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষক কেন্দ্রে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার একই সময় তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চরম দুর্ভোগে রয়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। সময় মতো কাজে যেতে পারছেন না। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে অনেকে খড়কুটা জ¦ালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। কামাত পাড়ার ভ্যানচালক কবির হোসেন বলেন, শীতের কারণে সকাল সকাল বের হওয়া যায় না। আবার সন্ধ্যার আগেই ঘরে ঢুকতে হয়। সকাল এবং সন্ধ্যায় শহরের লোকজন কম থাকে। সব মিলিয়ে রোজগার কম হচ্ছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: রাসেল মাহ বলেন, তেঁতুলিয়ার আকাশের উপরি ভাগে ঘন কুয়াশা থাকায় সূর্যের তাপ ভূপৃষ্ঠে আসছে না। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি রয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ১০০ শতাংশ। আর গতিবেগ ঘণ্টায় ৬-১২ কিলোমিটার হওয়ায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া একই রকম থাকতে পারে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.