এইমাত্র পাওয়া

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

 

নিউজ ডেস্ক।।

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষক সমিতি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপাচার্য ও উপ–উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষক সমিতি। একই সময় এই আন্দোলনকে শিক্ষক সমিতির একাংশের অযৌক্তিক, অন্যায় সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে সাধারণ শিক্ষকদের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে শিক্ষকদের অন্য একটি অংশ।

শিক্ষক সমিতির অবস্থান কর্মসূচিতে প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের প্রফেসর ড. মু. গোলাম কবীর বলেন, সাদা দল থেকে নির্বাচিত লোকদের গবেষণা সেলের অ্যাসিসট্যান্ট ডিরেক্টর বানিয়েছেন উপাচার্য। উপাচার্য জামায়াত–শিবিরের লোক। তিনি জামায়াত–শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। তার তওবা করে পদত্যাগ করা উচিত।

চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, আমাদের এক দফা দাবিতেই আমরা অটল আছি। আগামীকালও আমাদের অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষকদের স্বার্থে সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ শিক্ষকদের মানববন্ধনে চবির সিন্ডিকেট সদস্য ও আইসিটি সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক সমিতিকে সাধারণ শিক্ষকদের মতামত নিয়ে বড় পরিসরে আন্দোলনে যেতে হয়। নির্বাহী পরিষদ তাৎক্ষণিক কর্মকাণ্ড ও রুটিন ওয়ার্কের কাজ করে। কিন্তু কার সঙ্গে কী কথা হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে আন্দোলনে যাওয়া, এটা আমি শিক্ষক সমিতির ঐতিহ্যে দেখি না। প্রশাসন যদি ৭৩–এর অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে, তাহলে এর জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় তা চ্যালেঞ্জ করা যায়। তা না করে নিজের মতো করে ৭৩–এর অ্যাক্ট ও সিন্ডিকেটকে বিতর্কিত করা প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কের মুখে ফেলার শামিল।

সমিতির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফরিদুল আলম বলেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি থাকলেও বিভিন্ন স্থানে সাধারণ সম্পাদক সভাপতিত্ব করেন, যা লজ্জাজনক। আমাদেরকে সমিতিতে কথা বলতে দেওয়া হয় না। তারা উপাচার্যের পদত্যাগের মতো একটা অযৌক্তিক দাবি নিয়ে ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাইছে। বর্তমান চবি প্রশাসন সুষ্ঠু নিয়মে আইন মোতাবেক তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে দাবি করেন তিনি।

আইন বিভাগের সভাপতি ও শিক্ষক সমিতির সদস্য প্রফেসর ড. রকিবা নবী বলেন, তারা শিক্ষকদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করছে না। তারা শুধু প্রশাসনের ভুল ধরতে ব্যস্ত। তারা ক্ষমতায় যেতে ব্যস্ত। শিক্ষক সমিতি তার দায়িত্ব বাদ দিয়ে নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে কোনো আইনের লঙ্ঘন হয়নি। আইন মোতাবেক সকল নিয়ম মেনে এটার বোর্ড আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু একটি ন্যায় ও ন্যায্য নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করতে শিক্ষক সমিতির একাংশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। এটা খুবই লজ্জাজনক।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. রাহমান নাসির বলেন, শিক্ষক সমিতি কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তারা এই নির্বাচনকালীন বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশকে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে রাখতে চাইছে। তাদের সব কর্মকাণ্ড ন্যক্কারজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক হিসেবে আমরা শিক্ষক সমিতির এমন অযৌক্তিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আমরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেছি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.