এইমাত্র পাওয়া

চবি: শিবির সন্দেহে শিক্ষার্থীকে মারধর, চাঁদা নিয়ে পুলিশে দিলো ছাত্রলীগ

চট্টগ্রামঃ শিবির সন্দেহে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থীকে তুলে এনে কয়েক ঘণ্টা মারধর ও পরিবারের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তরা শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রুপ সিক্সটি নাইনের অনুসারী। শিবির সন্দেহে আটকের পর ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের একটি ভাঙচুর মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

ওই শিক্ষার্থীর নাম মনিরুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে আদালতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান।

কটেজ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দিনগত রাত দেড়টার দিকে মনিরুলকে রেলক্রসিং এলাকায় অবস্থিত আলতাব কটেজ থেকে তুলে আনা হয়। সেখান থেকে ছাত্রলীগের অনুসারীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের পেছনে নির্জন জায়গায় নিয়ে যান। কয়েক দফায় মারধরের পর তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। মনিরুল তার পরিবারকে বিষয়টি জানালে তারা এত টাকা দিতে পারবে না বলে জানান। পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগকর্মীরা ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যথায় শিবির পরিচয়ে পুলিশে তুলে দেওয়ার হুমকি দেন।

এসময় নিরাপত্তার কথা ভেবে মনিরুলের পরিবার তিন দফায় ১৩ হাজার ৫০০ টাকা একটি বিকাশ নম্বরে পাঠান। টাকা পাওয়ার পর মনিরুলের ফোন বন্ধ করে আবারও মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আকিব জাভেদ, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের ইবনুল জাররাহ, অর্থনীতি বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের আবু সাইদ শাকিল প্রথমে দুজন শিক্ষার্থীকে তুলে আনেন। এসময় তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের মাহমুদুল হাসান ইলিয়াস ও ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অনুপ সরকার আকাশ। দুজনের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীর মোবাইল চেক করে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

চাঁদা আদায়ের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আকিব জাভেদের সঙ্গে ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

ঘটনাস্থলে থাকা ছাত্রলীগকর্মী আবু সাইদ শাকিল বলেন, ‘সে (ভুক্তভোগী মনিরুল) শিবিরের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। পরে আমরা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিই।’

মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওকে ধরার পর কয়েকজন চড়থাপ্পড় দিয়েছিল। তবে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি সঠিক নয়।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৪/১২/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.