মানিকগঞ্জঃ জেলার সাটুরিয়া সৈয়দ কালু শাহ্ কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ মোটা অঙ্কের অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে ২৫ নম্বরের স্থলে ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তাও আবার মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে। এদিকে নিয়োগ পরীক্ষায় মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কোনো প্রতিনিধি মনোনীত পত্র প্রেরণের আগেই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অজ্ঞাত কারণে তড়িঘড়ি করে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষকে ডিজির প্রতিনিধি বানিয়ে নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া উপাধ্যক্ষ আমিনুর রহমান খান মজলিশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া ওই অভিযোগের কপি শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের কাছে দিয়েছেন। ওই অভিযোগ পত্রে তিনি দাবি করেছেন, নিয়োগ বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি শর্তাবলীর বিধি লঙ্ঘন করে ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে বেআইনি প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। সেটি বাতিলের দাবি করেন তিনি। পৃথক দুটি অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরি শর্তাবলী রেজুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯-এর ৪ এবং ৫ নম্বর ধারার উপ-ধারাসমূহ কোনো ভাবেই লঙ্ঘন না করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। অথচ পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সরকারি বিধি বিধান উপেক্ষা করে খুব দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
সূত্রমতে, চার সদস্যের নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা হলেন-নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শান্তা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. রেজিনা ইকবাল, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিজি) একজন প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের বিদ্যোৎসাহী সদস্য আফাজ উদ্দিন ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গনেশ চন্দ্র ঘোষ। এরমধ্যে নিয়োগ বোর্ডের অন্যতম সদস্য আফাজ উদ্দিন নিয়োগ পরীক্ষার সময় অনুপস্থিতি ছিলেন। এদিকে অভিযোগকালে দাবি করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করে অধ্যক্ষ নিয়োগের পেছনে অর্থ বাণিজ্য হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার একদিনের মাথায় প্রথমস্থান অধিকারীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ অনুমোদনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিব যৌথ স্বাক্ষরে তারিখবিহীন একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়।
সূত্রমতে, ১৯ নভেম্বর নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শান্তা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গভর্নিং বডির (৮৬নং) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় আলোচ্য সূচিতে বলা হয়, কলেজের শূন্য পদে অধ্যক্ষ নিয়োগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও নিয়োগ নির্বাচনি বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অধ্যক্ষ পদে আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য ১২ নম্বর, লিখিত পরীক্ষার জন্য ৫০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য ১৩ নম্বরসহ মোট ৭৫ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়। ওই অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষায় মোট চারজন অংশ নিয়েছিলেন। তাতে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার মহিশার্ষী গ্রামের মুহাম্মদ আবুল বাসারের ছেলে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রথম স্থান অধিকার করায় তাকে কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে নিয়োগ বোর্ড।
এ ব্যাপারে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গনেশ চন্দ্র ঘোষ ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শান্তা রহমানের সঙ্গে কথা হলে তারা দাবি করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিধি অনুসরণ করে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়োগ বাণিজ্যসহ কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি। যুগান্তর
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১০/১২/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
