অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষকের এমপিও বন্ধে মাউশির শোকজ

পটুয়াখালীঃ জেলার আজিজ আহম্মেদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. আহসানুল হক ও প্রভাষক মো. এবাদুল হকের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তপন কুমার দাস।

তিনি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রভাষক (রসায়ন) থেকে নিয়োগ নেয়া এবং প্রভাষকের (ব্যবস্থাপনা) বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে তাদের এমপিও কেন বাতিল করা হবে না পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর এবং একই সময়ের মধ্যে মতামত প্রদানের জন্য কলেজ পরিচালনা সভাপতিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা যায়, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মুরাদিয়ার বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিনসহ একাধিক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির দাখিলকৃত প্রতিবেদনে অধ্যক্ষ আহসানুল হক ও প্রভাষক এবাদুল হকের নিয়োগ অবৈধ উল্লেখ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক ফাহিমা সুলতানা গত বছরের ১৯শে সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অধ্যক্ষর নৈতিক স্খলন, শিক্ষকদের সঙ্গে স্বেচ্ছাচারিতা এবং অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের সময় পদবি ও অভিজ্ঞতা গোপন রেখে নিয়োগ লাভ করায় বিধি মোতাবেক বিভাগীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতিকে অনুরোধ জানিয়েছেন। অপরদিকে গত বছরের ২৩শে নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তপন কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অধ্যক্ষ আহসানুল হকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ এবং কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক মো. এবাদুল হকের অবৈধ নিয়োগ বিষয়ে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা ও মতামত দিতে নির্দেশ দেন। তবে তিনি এখনো স্বপদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অপরদিকে প্রভাষক এবাদুল হকের চাকরির বৈধতা প্রশ্নের সমাধান দিতে শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশও উপেক্ষা করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষা অধিদপ্তর ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথক দু’টি তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের নিয়োগ অবৈধ উল্লেখ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে কলেজ গভর্নিং বডিকে আদেশ দিলেও গত দেড় বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষ এক হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ বাস্তবায়ন না করে বিভিন্ন অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করছে। এদিকে গভর্নিং বডির সভাপতি, অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে কলেজের সুনাম নষ্টের দায়ে প্রভাষক শিলা হালদারকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত আহসানুল হকের বিরুদ্ধে গত একবছরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে স্বপদে বহল থেকে স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি কলেজের প্রভাষক ফরিদ আহম্মেদর এ সংক্রান্তে দুমকি থানায় দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরিতে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত জাল-জালিয়াতির ও দুর্নীতির তথ্য সার্বিক তদন্তে প্রমাণিত হয়। এ ছাড়া একটি যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলায় টানা দেড়মাসসহ একাধিকবার জেলহাজতবাসের কারণে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া একই কলেজের অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক আল-আমীনের মামলা নিস্পত্তি হওয়ার আগেই বিধি বহির্ভূতভাবে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার ও বেতন ভাতা প্রদান করায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাউশি অধিদপ্তরে অভিযোগ রয়েছে বলে মামলার বাদী জানান।

এ বিষয়ে জানার জন্য অধ্যক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

তবে কলেজ কমিটির সভাপতি এডভোকেট হারুন অর রশিদ হাওলাদার জানান, চিঠি পেয়েছি। অধ্যক্ষ তার কারণ দর্শানোর জবাব আমাকে দিয়েছে। আমি তা আমার মন্তব্যসহ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.