সাগরে লঘুচাপ: নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে আজ

ঢাকাঃ ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে আজ বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে।

গত কয়েক দিন ধরে লঘুচাপ ও সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে থাকা বিশেষ অবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। দক্ষিণ আন্দামান সাগরের এই সুস্পষ্ট লঘুচাপ আজ বৃহস্পতিবার যেকোনো সময় রূপ নিতে পারে নিম্নচাপে, যা পরে গভীর নিম্নচাপের ধাপ পার করে রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে ‘মিচাং’ বা ‘মিগজাউম’-এ। নামটি মিয়ানমারের দেওয়া।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজ লঘুচাপ আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। তবে এখনো বোঝা যাচ্ছে না কখন এটি নিম্নচাপে পরিণত হবে। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির আজকের পত্রিকাকে জানান, তাঁরা পর্যবেক্ষণ করছেন। ভারতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা আজ এটির নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে আজ কখন হতে পারে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সন্ধ্যার পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘নিম্নচাপে পরিণত হলে এটির সঠিক গতি-প্রকৃতি বোঝা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আশার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি অবস্থায় আছে।’

এদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আজ (বৃহস্পতিবারের মধ্যে) নিম্নচাপ ও ২ ডিসেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ভারতীয় বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘স্কাই মেট ওয়েদার সার্ভিসেস’ তাদের ওয়েবসাইটে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, দক্ষিণ আন্দামান সাগরের ওপর থেকে উৎপন্ন ঝড়গুলো দীর্ঘ সমুদ্রপথ অতিক্রম করতে পারে। এতে এদের তীব্রতা ও আকারে বড় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ঝড় অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

সর্বশেষ, গত ১৭ অক্টোবর আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি। মিয়ানমারের দেওয়া নাম মিচাং সৃষ্টি হলে বাংলাদেশে এ বছর এটি হবে চতুর্থ ঘূর্ণিঝড়। চলতি বছরের ১৪ মে বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমার উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় মোখা। আর গত ২৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে।

স্কাইমেট গতকাল বুধবার জানিয়েছে, লঘুচাপটি প্রবল ঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৮ থেকে ২৯ ডিগ্রি আছে এবং বাতাসের গতিবেগ ১৯ কিলোমিটার বা ১০ নটিক্যাল মাইল, যা ঝড় তৈরি করার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ১ ডিসেম্বরের পরে এমন সম্ভাবনা আছে। আর ২ ডিসেম্বরের পর দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় তৈরির পরিস্থিতি হবে।

অন্যদিকে, দেশের উত্তরাঞ্চলে শীত জেঁকে বসেছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এ সময় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল সর্বনিম্ন ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তরিফুল নেওয়াজ এ বিষয়ে বলেন, ‘নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই দেশে শীত শুরু হয়। আর এখন তো একদিন পরেই ডিসেম্বর মাস। তাই দেশের সব অঞ্চলেই কমবেশি শীত থাকবে। তবে এর সঙ্গে লঘুচাপের কোনো সম্পর্ক নেই।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/৩০/১১/২০২৩  

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.