এইমাত্র পাওয়া

নির্বাচনে আটকা ‘একক’ পরীক্ষা

ঢাকাঃ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে তিন বছর আগে শুরু হয়েছে গুচ্ছ ভর্তি। বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো গুচ্ছ ভর্তিতে আসেনি। গুচ্ছে ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও রয়েছে নানা টানাপড়েন। এ অবস্থায় গুচ্ছ বাদ দিয়ে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ‘একক’ ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। কিন্তু নির্বাচনের কারণে সেটাও আটকে গেছে।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ‘একক’ ভর্তি পরীক্ষার সব কাজ এগোনোর পরও নির্বাচন আসতেই তা থেমে গেছে। মূলত নির্বাচনের আগে এ ব্যাপারে কোনো ধরনের চাপ নিতে চাচ্ছেন না শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ‘একক’ ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ কার্যকর হওয়ার কথা।

সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গত ১৫ এপ্রিল ‘একক’ ভর্তি পরীক্ষা চালুর ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই আলোকে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে আওতাভুক্ত করে ‘একক’ ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি একাধিক সভা করে ‘বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্নাতক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৩’ নামে একটি খসড়া চূড়ান্ত করে, যা গত ৩১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুধু একটি সভা করে এ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করার পর তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে জারি করতে পারত। কিন্তু প্রায় দুই মাস ধরে তা পড়ে থাকলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি। অধ্যাদেশটি জারি হলেই ওই কর্তৃপক্ষ ‘একক’ ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করতে পারত।

জানতে চাইলে ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘আমরা অধ্যাদেশের খসড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এরপর আর আমাদের কাছে কোনো আপডেট নেই। এ বছর একক ভর্তি পরীক্ষা শুরু করা কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।’

গত রবিবার এইচএসসির ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি একক ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে বলেন, “এটি নিয়ে এখনো আলাপ-আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। যেটা গুচ্ছ পরীক্ষা হচ্ছে, সেটাকে একটা ‘একক’ পরীক্ষার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। আশা করি, সে জায়গায় পৌঁছতে পারব। আর যদি না পারি তাহলে গুচ্ছ পরীক্ষার মতো করে এ বছর হয়তো হবে। কিন্তু তার পরের বছর শুরু করব। দেখা যাক কতদূর পৌঁছানো যায়।”

‘একক’ ভর্তি পরীক্ষা কী : ইউজিসির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একক ভর্তি পরীক্ষা দুই ধাপে হতে পারে। প্রথম ধাপে বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের মতো অভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা হবে। দ্বিতীয় ধাপে যার যার বিভাগভিত্তিক (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) বিষয়ের ওপর পরীক্ষা হবে। দুই ধাপের এ পরীক্ষা একসঙ্গেও হতে পারে, আবার আলাদাভাবেও হতে পারে। এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই এ পরীক্ষা হবে।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অনলাইনে বিজ্ঞপ্তি দেবে। কোনো বিষয়ে কী যোগ্যতা লাগবে, তাও বলে দেবে। সেখানে এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফল থেকে কত নম্বর নেবে এবং ‘একক’ ভর্তি পরীক্ষা থেকে কত নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে, তা জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য আবেদন করবেন। এজন্য তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে না। পুরো কাজটি হবে অনলাইনে। এ ছাড়া সব বিশ্ববিদ্যালয় একটি নির্ধারিত সময় দিয়ে ভর্তির কাজটি শেষ করবে। এ ক্ষেত্রে একজন ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন, সেটির নিশ্চায়ন দেবেন এবং শুধু সেটির জন্যই ভর্তি ফি জমা দেবেন। তবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম একটি ‘প্রসেস ফি’ দিতে হবে।

গুচ্ছ ভর্তি কীভাবে হয় : সাধারণ ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছের নাম দেওয়া হয়েছে জিএসটি (জেনারেল, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি)। প্রকৌশল গুচ্ছে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি গুচ্ছের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ও আলাদা ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে পরিচালিত চার বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর) এবং বিশেষায়িত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) গুচ্ছ ভর্তিতে আসেনি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটিও আলাদা পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে। অ্যাফিলাইটিং বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে।

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হলেও পরে আলাদা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের নিজেদের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি করছে। এতে একই শিক্ষার্থীর একাধিক গুচ্ছে এবং গুচ্ছে না থাকা একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়। এ ছাড়া গুচ্ছে শিক্ষার্থীদের নাম একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা তালিকায় আসছে। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ায় অন্যদের বারবার মেধা তালিকা পরিবর্তন করতে হচ্ছে।

তীব্র প্রতিযোগিতা : ২০২৩ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫২ জন। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫৯৫ জন। আর জিপিএ ৪ থেকে ৫-এর নিচে পেয়েছেন ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৮ জন। ফলে প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য চেষ্টা করবেন। কিন্তু শিক্ষাকার্যক্রম চালু থাকা প্রায় ৪০টির মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে আসনসংখ্যা মাত্র ৬৬ হাজার। সরকারি ৪৭ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে আসন ৫ হাজার ৩৮০টি। ফলে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না।

তবে পছন্দের প্রতিষ্ঠান না পেলেও উচ্চশিক্ষায় আসনের কোনো সংকট নেই বলে দাবি ইউজিসির। তারা জানায়, উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ আসন রয়েছে। ৪০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন ৬৬ হাজার। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বছরে দুই বা তিন সেশনের হিসাবে) প্রায় সাড়ে তিন লাখ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ৮ লাখ ৫৮ হাজার (অনার্সে ৩ লাখ, ডিগ্রিতে ৫ লাখ ৫৮ হাজার), আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসায় ৬০ হাজার, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৪৩০, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ২৩ হাজার ৩৩০, সরকারি- বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে সাড়ে ১১ হাজার, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৭২০টি আসনসহ আরও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। দেশ রূপান্তর

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৮/১১/২০২৩  

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.