গোপালগঞ্জঃ জেলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শফিকুল ইসলামকে অপমান ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রনি মৃধা চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
বুধবার (২২ নভেম্বর) ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম ছাত্রের থেকে নিরাপত্তা চেয়ে ও বিচার দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেন।
এর আগে রনি মৃধা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর ও জীবন নাশের হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্ত এ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বশেমুরবিপ্রবি প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে জানা গেছে।
ফার্মেসি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রনি মৃধা প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের তত্ত্বীয় পরীক্ষায় অন্যের খাতা দেখে লিখছিলেন। এসময় পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত বিভাগীয় শিক্ষক শফিকুল ইসলাম তাকে বাঁধা দেন। এতে রনি ওই শিক্ষকে দিকে উদ্ধতপূর্ণ আচরণ করে চোখ রাঙ্গায় এবং খাতা-কলম আঁচড়িয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যায়। কিছুদিন পর তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফার্মাসিটিউক্যাল টেকনোলজি ল্যাব ট্রায়াল চলাকালে পরীক্ষার হলে দেরিতে উপস্থিতির বিষয় জানতে চান দায়িত্বরত ওই শিক্ষক। কিন্তু অভিযুক্ত রনি মৃধা পরীক্ষা কেন্দ্রে সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে ওই শিক্ষককে অপমান ও অশোভন আচরণ করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, গত ২৯ আগষ্ট বিভাগের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা পরিদর্শনকালে রনি মৃধা তার পাশের এক শিক্ষার্থীর খাতা দেখে লিখছিলেন৷ এ সময় তাকে আমি একাধিকবার দেখে লেখার ব্যাপারে নিষেধ করি। কিন্তু তিনি আমার কথা অমান্য করেন। ফলে আমি পাশের শিক্ষার্থীকে অন্যস্থানে সরিয়ে দেই। এতে তিনি আবারও আমার সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি তার পাশের শিক্ষার্থীকে সরানোর কারণ জানতে চেয়ে উদ্ধত ভাষায় আমাকে পরীক্ষা কেন্দ্রেই চার্জ করেন এবং হুমকি-ধামকি দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান। কেন্দ্রের বাইরে গিয়েও তিনি অকথ্য ভাষায় অনেক গালিগালাজ করেন।
বিভাগীয় প্রধানকে জানানো হয়েছে কিনা জানাতে চাইলে তিনি বলেন, আমি পরের দিন অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে সভাপতির বরাবর আবেদন করি। কিন্তু বিভাগ থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ অদ্যাবধি নেওয়া হয়েছে বলে জানা নেই।
তিনি আরও বলেন, গত ৮ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে বিভাগের সভাপতির কক্ষে মডারেশন সভা চলছিলো। এসময় অন্য শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই রনি মৃধা সভাপতির কক্ষের দরজায় দাঁড়িয়ে আমার নাম ধরে অনেক চিল্লাচিল্লি করেন। এর কিছু সময় পর সহকর্মী ড. তরিকুল ইসলাম বের হয়ে কথা বললে সে চলে যায়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে আজও আমি সভাপতির পদক্ষেপ জানতে চাইলে তিনি আশাব্যঞ্জক কিছুই বলতে পারেননি। এখনো তিনি বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দিয়েই যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, যতদিন পর্যন্ত আমি এর সুষ্ঠু বিচার না পাচ্ছি, ততদিন নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছি। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি একাডেমিক দায়িত্ব থেকে বিরত থাকছি।
তবে অভিযুক্ত রনি মৃধা মুঠোফোনে বলেন, তিনি আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে এসব অভিযোগগুলো দিয়েছেন। আমি তার সঙ্গে এরকম কোনো আচরণ করিনি। যদি করে থাকি, ওনাকে প্রমাণ করতে বলেন। বরং আমি তার সঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে কথাগুলো বলেছিলাম। কিন্তু তিনি সেটা অনেক বড় ইস্যু বানিয়ে ফেলছেস।
এদিকে রনি মৃধা তার শিক্ষাজীবনের সার্বিক নিরাপত্তা চেয়ে একই দিনে শিক্ষক শফিকুল ইসলামের আবেদনের পরপর প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানান।
সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দলিলুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় কথা বলতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, এর আগে রনি মৃধা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে প্রবেশ করে এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করেন এবং জীবন নাশের হুমকি দেন। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসন বরাবর আবেদনসহ আমরণ অনশন শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মারধরের ঘটনার কোনো বিচার হয়নি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২২/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
