ঢাকাঃ মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া ক্যাম্পাসে যত্রতত্র বৃক্ষ নিধন ও নারী নিপীড়নে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির শাস্তি নিশ্চিতসহ চার দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের কনফারেন্স রুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো-
– নারী নিপীড়নে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির বিষয়ে গঠিত স্ট্রাকচার্ড কমিটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
– বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে সাংবাদিক আসিফ আল আমিনকে মারধরের ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের বিচার করতে হবে।
– বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন না করে ইচ্ছেমতো গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।
– জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি সৌমিক বাগচীর ওপর হামলার দায়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার আগে সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি তুলে ধরেন জাবি শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী কণজ কান্তি রায় বলেন, “সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং শিক্ষার্থীদের পরামর্শ না নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছামতো বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক চর্চাকে নষ্ট করতে কালাকানুন পাস করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত মূলত প্রশাসনের স্বৈরতান্ত্রিক মতের বহিঃপ্রকাশ।”
যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির শাস্তির দাবি তুলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিপীড়ক শিক্ষককে বাঁচাতে উঠে-পড়ে লেগেছে। ঘটনার আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও তারা বিষয়টি এড়িয়েই যাচ্ছেন। আমরা মনে করি কোনো অদৃশ্য ভয় উপাচার্যকে এ অভিযোগের বিচার থেকে নিবৃত রাখছে। আমরা তার শাস্তি নিশ্চিত করে ক্যাম্পাসকে কলঙ্কমুক্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, শীতের প্রারম্ভ থেকেই যেখানে এই ক্যাম্পাস মুখরিত থাকত অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে, সেখানে অব্যবস্থাপনায় নির্মিত ভবনের কারণে আজ অতিথি পাখিদের নাম-নিশানাও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
ছাত্র সংসদের প্রসঙ্গে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের চরম বিপর্যয়ের উল্টোপিঠে দেখা যাচ্ছে শিক্ষক রাজনীতির রমরমা অবস্থা। ছাত্র সংসদ তথা জাকসুর কথা ভুলে গেলেও, শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠতে দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।”
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, “আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশাসন কর্তৃক বারবার বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছি। আমরা রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে যেকোনো অন্যায় সিদ্ধান্ত আদায়ের বিরুদ্ধে।”
অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় উল্লিখিত দাবিগুলো উত্থাপিত না হলে অবস্থান কর্মসূচি এবং লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১০/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
