নিউজ ডেস্ক।।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের পর পুনরায় ২০০৯ সাল থেকে দেশ শাসন করছেন। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন মহিলা সরকার প্রধান। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার ক্রমেই আরো স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছে এবং তার আওয়ামী লীগ দলের সমালোচকরা আনুমানিক ৪০ লাখ মামলার সম্মুখীন হয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আবারও রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে শতাধিক গ্রেফতার হয়েছে, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেত্রী এবং দুই বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির অভিযোগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে বর্তমানে গৃহবন্দি রয়েছেন, যা মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে।
২০১৪ এবং ২০১৮ সালে ভোট বর্জনকারী বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানুয়ারিতে নির্ধারিত নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি করছে। তারা অভিযোগ করছে যে, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। হাসিনা এবং তার সমালোচকরা প্রত্যেকেই জোর দিয়ে বলে থাকেন যে, ভালো হোক বা খারাপ হোক, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভাগ্য হাসিনার নিজের সাথে জড়িত। এখানে একটি নতুন প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের জন্য সেপ্টেম্বরের শুরুতে টাইম-এর সাথে হাসিনার সাক্ষাৎকারের পাঁচটি চুম্বকাংশ নিচে তুলে ধরা হল।
১. হাসিনা কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন দেখেন না : ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলো নির্বাচন পরিচালনা করেছে এবং এক সরকার থেকে অন্য সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে সহায়তা করেছে। কিন্তু, ২০০৬ সালে রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে একটি সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতা ধরে রেখেছিল।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে আইনটি বাতিল করেছে। এখন হাসিনা তত্ত্বাবধায়কের জন্য বিএনপির দাবি মেনে নেওয়ার প্রয়োজন দেখেন না।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির অধীনে বাংলাদেশে একাধিকবার নির্বাচন হয়েছে এবং প্রতিবারই জালিয়াতি ও কারচুপি হয়েছে। এখন তারা তত্ত্বাবধায়ক দাবি করছে। আর এখন তারা গণতন্ত্র দাবি করছে। কিন্তু যখন এই দেশে সামরিক শাসক ছিল এবং প্রতি রাতে কারফিউ ছিল এবং জনগণের কথা বলার অধিকার ছিল না, ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল না এবং অনেক কষ্ট হয়েছিল, তখন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়নি।’
২. হাসিনা বিশ্বাস করেন যে, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না : বিএনপিকে নিয়ে হাসিনার ঘৃণা তিক্ত এবং দৃশ্যমান। তিনি বিএনপি-প্ররোচিত কথিত সহিংসতা থেকে উদ্ভূত হতাহতের পরিসংখ্যান মুখস্থ করেছেন এবং সেগুলো গড় গড় করে বলে গেছেন।
বিএনপি তাদের দলের বিরুদ্ধে চলমান দমন-পীড়নের যে অভিযোগ করছে, সেই সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বারবার ঐতিহাসিক অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।
হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি গঠিত হয়েছে একজন সামরিক স্বৈরশাসক দ্বারা, যিনি সংবিধান লঙ্ঘন করে বন্দুক দিয়ে সেনাশাসন বহাল রেখেছিলেন। তারা বলে যে, গণতন্ত্র নেই। কিন্তু যখন সামরিক শাসক দেশ শাসন করছিল, তখন কি গণতন্ত্র ছিল? এমনকি খালেদা জিয়াও সামরিক স্বৈরশাসকের মতো শাসন করেছেন।’
৩. হাসিনা এখনও চান বাংলাদেশ ব্রিক্সে যোগদান করুক : হাসিনা বারবার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ব্রিক্স জোটে যোগদানের কথা বলেছেন এবং জোহানেসবার্গে আগস্টের শীর্ষ সম্মেলনে একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
তবে, জোটটি যখন ছয়টি নতুন সদস্যকে গ্রহণ করল, বাংলাদেশ স্পষ্টতই তাদের মধ্যে ছিল না। শেষ পর্যন্ত, বর্তমান সদস্যরা তাদের পছন্দের প্রতিবেশীকে চ্যাম্পিয়ন করেছে, এক ভারত ছাড়া যারা বাংলাদেশের জন্য চাপ না দেওয়া বেছে নিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসিনা বলেন, ‘খুব ভালো, তারা আমাদের পাশের প্রতিবেশী।’ তবুও, মোদি দক্ষিণ আফ্রিকায় হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং বিশ্লেষকরা মনে করেন, নয়াদিল্লি ভয় পেয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্রিক্সে যোগ দিলে ঢাকায় জোটের অবিসংবাদিত নেতা চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।
৪. হাসিনা তার মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা এড়িয়ে গেছেন : মে মাসে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করার জন্য দায়ী বা জড়িত বলে বিশ্বাস করা যেকোনো বাংলাদেশি ব্যক্তি’-এর ওপর ‘৩সি’ ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। জবাবে হাসিনা জাতীয় সংসদে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার কৌশল করে গণতন্ত্রকে বিনাশ করার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বছর ধরে হাসিনার অধীনে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী শাসনামল নিয়ে উদ্বিগ্ন। ২০২১ সালে মার্কিন ট্রেজারি বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যেটি শত শত বিচারবহির্ভূত গুম, সেইসাথে নির্যাতন ও হামলার সাথে জড়িত।
এটা হস্তক্ষেপ যা এখনও হাসিনাকে ক্ষুব্ধ করে। হাসিনা তিক্তভাবে বললেন, ‘তাদের নিষেধাজ্ঞা দেয়ার দরকার নেই। আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কেউ কোনো অপরাধ করলে আমরা তা ছাড়ি না, শাস্তি দিই।’ তবে, নিষেধাজ্ঞা প্রবর্তনের পর থেকে প্রতি বছর নথিভুক্ত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কমেছে।
৫. হাসিনা বিশ্বাস করেন যে, জলবায়ু সঙ্কট প্রশমনে উন্নত দেশগুলোর আরো সহায়তা দেয়া উচিত : বৈশ্বিক নির্গমনের মাত্র ০.৫৬ শতাংশ উৎপাদন করা সত্ত্বেও নিম্নাঞ্চলীয় বাংলাদেশ ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২১’ অনুযায়ী বিশ্বের সপ্তম চরম দুর্যোগ ঝুঁকি-প্রবণ দেশ।
হাসিনা জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার জন্য ২০২৫ সাল পর্যন্ত বৈশি^ক দক্ষিণকে উন্নত দেশগুলোর বার্ষিক ১০ হাজার কোটি ডলার প্রদানের বিদ্যমান প্রতিশ্রুতি পূরণ করার দাবিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সকল দেশ যারা কার্বন নির্গমনের জন্য সত্যিই দায়ী, তারা খুব কম অবদান রাখে, তারা কেবল আমাদের পরামর্শ দেয়। আমরা বড় বড় প্রতিশ্রুতি পাই, কিন্তু কার্যকর কিছু পাই না।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৪/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
