এইমাত্র পাওয়া

দৌলতখানে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত কয়েকশ শিশু

ভোলাঃ বড় হয়ে কী হতে চায়- এমন প্রশ্ন সব শিশুরই জন্যই থাকে। বলা হয় স্বপ্ন দেখতে। বিষয়টি এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্য বইয়ে আবশ্যকীয় করা হয়েছে। এর প্রভাব খাতা-কলমে থাকলেও বাস্তবে কোনো গতি নেই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু পাঠশালায় না গিয়ে শিশু শ্রমের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। জন্ম থেকেই দরিদ্র, পূর্বসূরিরা লেখাপড়া করেনি, স্বপ্ন কীভাবে দেখতে হয় তারা জানে না। পরিবারের বড়রা কেউ নদীতে মাছ ধরে, আবার কেউ জমিতে লাঙল চালায়। শিক্ষা কী কখনো বুঝে না। তবে তারা লেখাপড়া করতে চায়। চিত্রটি ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আপনের কলোনি নামক আবাসন এলাকার। ইউনিয়নে দুটি সরু খালের প্রতিবন্ধকতায় কয়েকশ শিশু পাঠদান থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

অভিভাবকদের দাবি, সন্তানরা স্কুলে গিয়ে পড়তে চায়। এর জন্য নিজেরা খরচ করে একটি রাস্তা বানিয়েছেন। কিন্তু খাল বাঁধবেন কীভাবে চেয়ারম্যানকে কয়েকবার বলেছেন, খালের ওপর একটা সাঁকো বানিয়ে দিতে। কয়েক বছর পার হলেও চেয়ারম্যান সাড়া দেননি। এ জন্য বাধ্য হয়ে সন্তানদের ক্ষেতে-খামারে, নদীতে পাঠান।

স্থানীয়াভ বলছেন, আপনের কলোনি থেকে পাটওয়ারী বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শিশুদের স্কুলে যেতে হয়। যদি সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি প্রাথমিক স্কুল হতো, তাহলে অবহেলিত এই শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে অকালেই ঝরে পড়ত না। আর যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে খালের ওপর দুটি কালভার্ট করে দিতে পারে। আপনের কলোনির একাধিক শিশু বলছে, কাজ করতে ভালো লাগে না। স্কুলে পড়তে মন চায়। যদি রাস্তা ভালো হতো তাহলে স্কুলে যেত তারা।

মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন নান্নু বলেন, আমি কয়েকবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দুটি কালভার্ট করার জন্য বলেছি। তিনি বলছেন বরাদ্দ হলে করা যাবে। একটি ইমারজেন্সি সাঁকোর ব্যবস্থার কথা বললে তিনি বলেন, একটি সাঁকো বানাতে অনেক খরচ। সেটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

উপজেলার নির্বাহী অফিসার পাঠান মো. সাইদুজ্জাম বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/১০/২০২৩    

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তা


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.