ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ জেলার কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের চাপিয়া গ্রামের রনি মিয়া সংসারের খরচ জোগাতে চালান অটোরিকশা। তবে তার মেয়ে তাসলিমা আক্তার বন্ধু-বান্ধবীদের কাছ থেকে বই সংগ্রহ করে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিদিন বাড়ি থেকে তিন মাইল দূরে চন্ডীদার হাই স্কুলে হেঁটে আসা যাওয়া করতো তাসলিমা। স্কুলের এক ড্রেসেই ভরসা ছিলো তার। তালিমার মা কানে কম শোনতে পাওয়ায় পরিবারের বড় একটা দায়িত্বও তাসলিমার ওপর। তার ছোট ভাই শরিফ অষ্টম শ্রেনি পর্যন্ত পড়ালেখা করে অর্থের অভাবে আর এগোতে পারেনি।
তালসিমার বাবা মো. রনি মিয়া বলেন, আমি কল্পনাও করতে পারিনি আমার মেয়ে এমন ফলাফল উপহার দিবে, আমার মেয়ের ফলাফলে অনেক খুশি। আমার মেয়ের স্বপ্ন সে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করবে। কিন্তু আমার ইঞ্জিনিয়ার পড়ানোর সামর্থ্য নেই।
চন্ডীদার হাই স্কুলের ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি কারিগরি শাখার শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রথম থেকেই জানতাম তাসলিমার পরিবারের অবস্থা ভালো না। তার পরিবারের এমন পরিস্থিতির মধ্যে সে ভালো ফল অর্জন করেছে। এটা অনেক বড় পাওয়া। আমরা তাসলিমার পাশে ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকবো।
তাসলিমা আক্তার বলেন, আমার বাবা আটো চালায়। আমরা গরিব মানুষ। আমার মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে। এই অবস্থায় তারা আমাকে পড়ালেখা করিয়েছে। আমি বড় হয়ে একজন ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। কিন্ত আমার বাবার সেই সামর্থ্য নেই। সমাজ এগিয়ে আসলে আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে পারব।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল এহসান খান বলেন, তথ্য পেয়ে আমি তাসলিমার বাড়িতে ছুটে যায়। তাকে ও তার পরিবারকে দেখার জন্য। তাসলিমার এমন ফলাফলে আমরা আনন্দিত, উপজেলা প্রশাসন তাসলিমা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়াবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৬/০৮/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

