ঢাকাঃ রাজধানীর ঢাকার অলি-গলিতে কোরবানির পশুর রক্ত বৃষ্টির পানিতে মিশে লাল হয়ে একাকার হয়ে গেছে। অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থান থেকে নিচু স্থানের দিকে বয়ে যাচ্ছে রক্ত মাখানো পানির এই স্রোত। যা দেখে যে কারও মনে হতে পারে এ যেন এক রক্ত নদীর স্রোত! অনেকেই এসবের ছবি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ারও করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীতে ঈদুল আজহার নামাজ পড়তে হয়েছে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই। গত রাত থেকেই হচ্ছে বৃষ্টি। যে কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীবাসী। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকায় অনেকেই বাসাবাড়ির নিচে পার্কিংয়ের স্থানে কোরবানি দেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। গরু-ছাগল কোরবানির পর বৃষ্টির পানির সঙ্গে রক্ত মিশে একাকার হয়ে রক্ত মেশা পানির স্রোত বয়ে যায়।
তবে এই রক্ত পানির ধারা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ২০১৬ সালের কোরাবানির ঈদে আরও বেশি এরকম পরিস্থিতি দেখা গেছে। কোরবানির পশুর রক্তে রঞ্জিত হয়ে ওই পানির রঙ এক ভয়াবহ দৃশ্যের সৃষ্টি করেছিল ২০১৬ সালেও। ২০২৩ সালেও এসে এর পুনরাবৃত্তির মতোই ঘটনা ঘটলে। ২০১৬ সালের সেই দৃশ্যগুলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ হয়েছিল।
এদিকে গত রাত থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। ১০ মিনিট থেমে থাকলেও আবার শুরু হচ্ছে বৃষ্টি। ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পানি অপসারণ হতে সময় লাগছে। ঢাকার অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও উপযুক্ত নয়। একদিকে কোনো এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক নেই আবার যেসব এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো আছে কিন্তু সময় লাগছে এমন স্থানগুলোতে জলাবদ্ধতার সঙ্গে জবাইকৃত পশুর রক্তের সঙ্গে মিশে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকার সড়কগুলো বিশেষ করে অলি গলির পথগুলো দেখে মনে হবে এটি রক্তের নদীতে পরিণত হয়েছে।
রাজধানীর ফার্মগেট, পশ্চিম রাজাবাজার, শুক্রাবাদ, পান্থপথের ভেতরের অলিগলি, নোয়াখালী লেন এলাকায় এসব দৃশ্য দেখা যায়। অনেকেই রক্ত মিশ্রিত পানি উপর দিয়েই বাধ্য হয়ে চলাচল করছেন। ঈদের দিন সেই সাথে বৃষ্টির কারণে সড়কে পর্যাপ্ত রিকশা নেই। এতে স্বল্প দূরত্বে রিকশায় যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও অনেকে সেটি পারছেন না।
পশ্চিমরাজাবাজার এলাকার বাসিন্দা চাঁন মিয়া বলেন, এই রক্তের পানিতে পা ভেজাতে মন চায়নি কিন্তু উপায় নেই। কোনো রিকশা পাইনি, ৪০ মিনিট অপেক্ষা করে হেঁটে আসলাম।
একই এলাকার বাসিন্দা জমির মিয়া বলেন, ফ্ল্যাটের নিচে সবাই কোরবানি দিছে। রক্ত বৃষ্টির পানির সাথে মিশে মনে হচ্ছে এই এলাকা রক্তের কোনো নদী। নিচু জায়গায় পানি জমেছে, বৃষ্টি ছাড়লে হয়তো ধীরে ধীরে পানি নেমে যাবে।
মুগদা মেডিকেল থেকে আশপাশের এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এছাড়াও কাঠালবাগান ঢাল, মগবাজার এলাকার ভেতরের কিছু অলি-গলিসহ পুরান ঢাকার কিছু স্থানে এমন পানি জমে এই পরিস্থিতি হয়েছে বলে জানা যায়। পশ্চিম তেজতুরি বাজার জামে মসজিদের সামনেও রক্ত নদীর স্রোত দেখা যায়।
এদিকে, ঢাকায় দূষণ ঠেকাতে প্রস্তুতি ছিল দুই সিটির। ঈদের দিন ভারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পশুর বর্জ্য ও রক্তে যাতে দূষণ ছড়াতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে অনেকে কোরবানি দেয় না। ফলে স্থান নির্ধারণ নয়, যত দ্রুত সম্ভব বর্জ্য অপসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে সিটি করপোরেশন।
পবিত্র ঈদুল আজহায় এবছর দেশে প্রায় এক কোটির বেশি কোরবানি হবে বলে শুরু থেকে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরমধ্যে শহরকেন্দ্রিক সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পশু কোরবানি হবে রাজধানীতে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইফতিখার আহমদ চৌধুরী বলেন, আমি নিজেও গতরাত ৩টা পর্যন্ত হাটে কাজ করেছি হাটের বর্জ্য নিয়ে। জলাবদ্ধতা যেখানে হচ্ছে সেটি নিয়ে কাজ হচ্ছে। অনেক স্থানে পানি জমেনি, যেখানে জমেছে পাইপ ছোট হওয়াতে হয়েছে, তবে কাজ চলছে। এছাড়াও আজ ১২টা থেকে কোরবানির বর্জ্য নিয়ে কাজ শুরু হবে। আমাদের টিম কাজ করছেন আমাদের নির্ধারিত সময়েই আমরা বর্জ্য মুক্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির কারণে অনেকেই বাসায় কোরবানি দিয়েছেন। এরপর রক্ত এসে রাস্তার পানিতে মিশে যায় এটা ঠিক।
উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করলেও ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে ডিএনসিসির বর্জ্য বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, স্যাররা এটি নিয়ে গতকালও অনেক কাজ করেছেন সবার উপর নির্দেশনা দেওয়া আছে। বৃষ্টির কারণেও আমাদের বর্জ্য অপসারণে বিলম্ব হবে না। রক্তগুলো পানিতে মিশে চলে যাচ্ছে যেখানে জমাট বেধেছে সেখানেও দ্রুতই পানি নেমে যাবে।
ঈদের দিনেই রাজধানীর সমস্ত কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র। দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ে এ বর্জ্য অপসারণের জন্য দুই সিটি করপোরেশন প্রায় ২০ হাজার কর্মী প্রস্তুত রেখেছে বলেও জানিয়েছেন তারা। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) দুপুর ২টা থেকে শুরু করে ২৪ ঘণ্টা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আট ঘণ্টায় এ বর্জ্য অপসারণ করবে। আজ জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
জানা গেছে, এবার কোরবানির ঈদে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ৫ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে। এসব পশু থেকে কমপক্ষে ৩০ হাজার টন বর্জ্য সৃষ্টি হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৯/০৬/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
