জাবির ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে শিফট বৈষম্য চরমে

ঢাকাঃ ১৯৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম শিফটে মেধাতালিকায় ২২ জন, বাকি ১৭১ জনের নাম এসেছে পরের শিফটে। এমনটাই দেখা গেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের (সমাজবিজ্ঞান অনুষদ) মেয়েদের ভর্তি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে। ছেলেদের ফলাফলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। এই চরম বৈষম্যকে প্রশ্নপত্রের অসামঞ্জস্য ও মেধার অবমূল্যায়ন বলে অভিহিত করেছেন বিশ^বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ২০২২-২৩ স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার বি ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয় এবং বুধবার গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদ এবং ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজিভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়।

‘বি’ ইউনিটের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছেলে ও মেয়ে পৃথক দুইটি শিফটে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় মেয়েদের দ্বিতীয় শিফটে মেধাতালিকায় স্থান পায় ১৭১ জন, যা মোট আসনের ৮৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। অন্যদিকে প্রথম শিফটে ২২ জন মেধাতালিকায় স্থান পায়, যা মোট আসনের ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ। অন্য দিকে ছেলেদের ফলাফলেও এই বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়েছে। দ্বিতীয় শিফটে মেধাতালিকায় স্থান পায় ১৩৬ জন যা মোট আসনের ৭০ দশমিক ৪৭ শতাংশ অপরদিকে প্রথম শিফটে ৫৭ জন স্থান পান যা মোট আসনের ২৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

অপরদিকে ‘এ’ ইউনিটের ফলাফলে দেখা যায়, মেয়েদের ২টি শিফটে ও ছেলেদের ৪টি শিফটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ছাত্রদের মোট ২২৩ টি আসনের মধ্যে শুধু ৩য় শিফট থেকেই ১৪১ জন ছাত্র মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে, যা মোট মেধাতালিকায় স্থানপ্রাপ্তির ৬৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। আর প্রথম শিফট থেকে ৩৪ জন, দ্বিতীয় শিফট থেকে ৩৮ জন এবং ৪র্থ শিফট থেকে মাত্র ১০ জন মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রীদের দুই শিফটের মধ্যে প্রথম শিফট থেকে ৭৩ জন এবং দ্বিতীয় শিফট থেকে ১৫০ জন মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে যা মোট আসনের যথাক্রমে ৩২ দশমিক ৭৪ এবং ৬৭ দশমিক ২৬ শতাংশ।

এ ব্যাপারে গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ আহমদ বলেন, ‘মেয়েদের ২ হাজার ২৩০ জনের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে সেখানে দুই শিফট থেকে প্রায় ৫০% করেই স্থান পেয়েছে। তবে ছেলেদের একটি শিফট থেকে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এসেছেন। শিফটভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি একাডেমিক কাউন্সিল থেকে সিদ্ধান্ত হয়ে আসে। ডিন অফিস থেকে সে অনুযায়ী আমরা পরীক্ষা নেই। একাডেমিক কাউন্সিল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই আমরা করেছি।

শিফট বৈষম্যের ব্যাপারে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, ‘শিফট পদ্ধতি নিয়ে যে বৈষম্য তৈরি হয় তাতে ভর্তিচ্ছুরা ভোগান্তিতে পড়ে। তবে প্রতিটি শিফটে প্রশ্ন একই ক্যাটাগরিতে অনেকগুলো সেটে পরীক্ষা হয়। এবার শিফট পদ্ধতি থেকে বের হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একাডেমিক কাউন্সিলে অনেক শিক্ষক এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় আমরা তা বাস্তবায়ন করতে পারিনি।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২১/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.