শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরর বেহাল দশা পরিবর্তনে বাজেট বৃদ্ধি অবধারিত

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক: শুধু শিক্ষানীতির জন্য বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ আরও বাড়ানো দরকার ছিলো। আমাদের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের সঙ্গে তুলনা করলে আমাদের বরাদ্দকৃত অর্থ তুলনামূলক কম। তবে তুলনাটা বড় বিষয় নয়, আমাদের শিক্ষার উন্নতির জন্য বাজেট বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের বর্তমানের বেহাল দশা পরিবর্তনের জন্য বাজেট বৃদ্ধি অবধারিত।

আমরা সকলেই জানি সরকার গত দশ বছর ধরে বিশ্বব্যাংকের থেকে অনেক টাকা নিয়েছে এই শিক্ষা খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং গত ১ বছর যাবৎ পাঠ্যসূচিসহ কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায় এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে নানান ভাবে বিভক্ত হয়ে আছে যা জাতীয় অর্থে এবং রাষ্ট্র গঠনে মারাত্মক ক্ষতিকর। এটা দূর করার প্রয়োজন এবং এটি দূর করার জন্য বিদেশি ঋণের কোনো দরকার নেই। সরকারি অর্থায়নেই এটি দূর করা সম্ভব। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এতো বেশি ধারা কেন হবে? ১৩ ভাগে বিভক্ত আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা। এই তেরো ভাগেকে দুই থেকে তিন ভাগে আনা প্রয়োজন এবং এটি করার জন্য সামান্য অর্থের প্রয়োজন। এছাড়াও এ ধরনের আরও কিছু বিষয় আছে যেগুলো পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

প্রাইমারি, সেকেন্ডারি এবং হায়ার-সেকেন্ডারি তিনটি পর্যায়ে সিলেবাস, পাঠ্যপুস্তক এবং কারিকুলাম উন্নত করা বিশেষভাবে প্রয়োজন। কিন্তু এই বিষয়গুলোতে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না বছরের পর বছর। এমনকি কোনো সরকারের সময়েই এই ব্যাপারগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হয় না। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর অল্পকিছুদিন আগে একটি শিক্ষা কমিশন ডিপো প্রকাশিত হয়েছিলো, কিন্তু পরে তা আর বাস্তবায়ন করা হয়নি। জিয়াউর রহমান এবং এরশাদের আমলে নানান কারণে সেগুলো পরিবর্তন হয়ে গেছে। এরপরও শিক্ষানীতি পরিবর্তনের জন্য অনেক কমিটি গঠন হয়েছে, কিন্তু কোনোটাই কার্যকর হয়নি। যার কারণে প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক সকল পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা একধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে আছে।

উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয় ধাপের জন্য প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক এই তিনটি ধাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি ধাপের উন্নয়ন না হলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়ে থাকে। তাই অবশ্যই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার এই প্রথম তিন ধাপে পরিবর্তন আনা দরকার এবং এটি করার জন্য বিদেশি ঋণের কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু সেই ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত বার বার বড় অঙ্কের বিদেশি ঋণ নিয়েও কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকার কেউই এই খাতের উন্নয়ন চায়নি বা উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করেনি। বর্তমানে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে এটিও যথেষ্ট নয়। অনেক বড় অর্থ ব্যায় করা হচ্ছে কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

এমনকি দেশের বিশিষ্টজনেরাও এখন আর আমাদের শিক্ষা নিয়ে লিখতে-বলতে আগ্রহ করে না। বাংলাদেশ জন্মের আজ ৫২ বছর চলছে, এই গোটা সময়ে মধ্যে প্রকৃত পক্ষে কোনো পরিবর্তন নেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাতে। পরিক্ষা পদ্ধতিকে জটিল থেকে জটিল বানানো হচ্ছে দিন দিন। এটির বিশেষ পরিবর্তন আনা দরকার। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন এগুলো নিয়ে ন্যাশনাল এসেম্বিলিতে আলোচনা করে তারপর বাজেট বাড়াতে হবে এবং কার্যকর করতে হবে, তাহলেই পরিবর্তন আসতে পারে।

ইউরোপ, আমেরিকার বড় বড় শিক্ষা বিষয়ক গবেষকেরা বলেছে, ‘কোনো সরকারই তার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এতোটা ভালো করতে চায় না, যতোটা করলে সেই সরকারের ধারাবাহিকতা থাকবে না’। এজন্য সব সরকারিই শিক্ষাটাকে একটা লিমিটের মাঝে রাখতে চাই। এই ব্যাপারটি বাংলাদেশে শতভাগ ঘটে থাকে। আমরা সবসময় খেয়াল করেছি, আমাদের কোনো সরকারই চাই না আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি হোক।

লেখকঃ শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২১/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.