এইমাত্র পাওয়া

অধিনায়ক না হয়েও নেতা মুশফিক

সাড়ে তিন বছর আগের ব্যাঙ্গালুরুর সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা কখনও ভুলতে পারবেন না মুশফিকুর রহিম। পরশু রাতে দিল্লিতে ভারতের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জয়ের পরও উঠেছিল প্রসঙ্গটি। সেখানেও একই কথা বলেছেন মুশফিক। তবে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত করেছে। জানালেন, সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই জিতেছেন দিল্লিতে। ভারতীয় গণমাধ্যম এই পরিণত মুশফিককে তুলনা করছেন মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে। তাদের এমন তুলনার কারণ, ১৯তম ওভারে চাপের মুখে খলিল আহমেদকে টানা চারটি চার মেরে যেভাবে মুশফিক ঠাণ্ডা মাথায় দলকে জিতিয়েছেন, একমাত্র ধোনিই নাকি এভাবে ফিনিশিং দেন!

ভারতীয়রা মুশফিকের মাঝে ধোনিকে খুঁজলেও সতীর্থদের কাছে তিনি নেতা। মুশফিক সীমিত ওভারের ফরম্যাটে নেতৃত্ব ছেড়েছেন কয়েক বছর হয়ে গেছে। টেস্ট অধিনায়ক থেকেও সরেছেন বেশ কিছু দিন হলো। এরই মধ্যে গত বিশ্বকাপের পর সমকালের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মুশফিক বলেছেন, ভবিষ্যতে আর কোনো দিন জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করবেন না। তবে দলের এই ক্রান্তিকালে ঠিকই এগিয়ে এসেছেন তিনি। মাঠে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে প্রতি মুহূর্তে সহায়তা করছেন। পরামর্শ দিচ্ছেন, ফিল্ডিং সাজানোতে সাহায্য করছেন। প্রথম টি২০-তে তো প্রত্যেক বোলারকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, মাঠের বাইরেও সবার প্রতি অকাতরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন মুশফিক। একেবারে দল অন্তঃপ্রাণ বলতে যা বোঝায়, মুশফিক যেন তার প্রতিমূর্তি। মুশফিক আগেও এমনি ছিলেন। তবে এ সফরে যেন অনেক বেশি দায়িত্ববান তিনি। সেটা মাঠে ও মাঠের বাইরে।

২০১৬ সালের ২৩ মার্চ ব্যাঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে শেষ তিন বলে ২ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু হার্দিক পান্ডিয়ার বলে এই সহজ সমীকরণ মেলাতে পারেননি মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে উচ্চাভিলাষী শট খেলে দু’জনই আউট হয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১ রানে ম্যাচ হেরেছিল বাংলাদেশ। রোববার রাতে জয়ের পর মুশফিক পরিষ্কার করে বললেন সেই দুঃস্মৃতি এখনও ভুলতে পারেননি, ‘বিশ্বকাপের ম্যাচ এবং দ্বিপক্ষীয় সিরিজের ম্যাচ সম্পূর্ণ আলাদা। বিশ্বকাপের ম্যাচ বিশ্বকাপই। সেই আক্ষেপ কখনও যাবে না, আমি আগেও বলেছি, জীবনে যদি কোনো একটা ম্যাচ ফিরে পেতে চাই, তাহলে সেটা হবে ব্যাঙ্গালুরুর সেই ম্যাচ। সেই ম্যাচে আমরা আরও সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম।’ তবে এরপর বাংলাদেশ অনেক ম্যাচ জিতেছে মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর ব্যাটে। এই যেমন গত বছর নিদাহাস ট্রফিতে এর চেয়েও কঠিন পরিস্থিতিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ। তবে ভারত বলেই রোববার রাতে ম্যাচের শেষ দিকে মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ জুটির কারণেই মনের কোণে অবচেতনেই উঁকি দিয়েছিল ব্যাঙ্গালুরুর স্মৃতি।

তবে সেই ম্যাচের শিক্ষার কারণেই এবার মুশফিক ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন, ‘মানুষ ভুল করতেই পারে। সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়াটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আমি নিজের সঙ্গে কথা বলছিলাম। শেষ দিকে রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গেও কথা বলছিলাম। আমরা পরিষ্কার ছিলাম যে, কী করতে হবে। এবার আমরা ম্যাচ শেষ করে আসতে পেরেছি। এটা ছিল আমাদের জন্য দারুণ ব্যাপার।’ তবে ব্যাঙ্গালুরুর সেই ঘটনা ঘুরেফিরে আসায় কিছুটা বিরক্তও হয়েছেন মুশফিক, ‘এভাবে জিতলে কেউ মনে রাখে না। হেরে গেলে সবাই মনে রাখে… এমনটা যে কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে। ১০-১৫ বছরে এমন কিছু ম্যাচ আপনার ক্যারিয়ারে থাকতেই পারে। গত কয়েক বছরে বেশ কিছু ম্যাচ আমি শেষ পর্যন্ত থেকে জিতিয়েও ফিরেছি। সেগুলো আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।’


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.