এইমাত্র পাওয়া

যেকারণে গৃহশিক্ষক গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক।।

বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় একমাত্র আসামি মো. সাইদুল ইসলামকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সাইদুল ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার মহেশতারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। তিনি দক্ষিণ সালনা এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক, পাশাপাশি একটি মসজিদে নামাজ পড়ান।

বুধবার (১০ মে) রাতে র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে, সোমবার (০৮ মে) রাতে গাজীপুরের সালনা এলাকায় কলেজছাত্রী রাবেয়া আক্তারকে বাসায় ঢুকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় বাধা দিলে ওই ছাত্রীর মা ও তিন বোনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। মা বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পরেই অভিযুক্ত শিক্ষক সাইদুল ইসলাম (২৫) পালিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে গাজীপুর সদর থানায় একটি মামলা করেছেন নিহত ছাত্রীর বাবা।

নিহত শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার (২১) গাজীপুরের দক্ষিণ সালনা এলাকার আবদুর রউফের মেয়ে। তিনি ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। ঘটনার সময় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন রাবেয়ার মা ইনসুরেত নেছা (৫০), বোন হাবিবা (১৮), খাদিজা (১৫) ও জান্নাত (১৩)।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার হোমনার শ্রীমদ্দি এলাকার বাসিন্দা আবদুর রউফ সালনা বাজারে একটি শোরুমে চাকরি করেন। সেখানেই সপরিবার বসবাস করেন। ছোট দুই মেয়েকে কোরআন শিক্ষার জন্য সাইদুল ইসলামকে হাউস টিউটর হিসেবে নিয়োগ করেন আবদুর রউফ। সাইদুল রাবেয়াকে বিয়ে করার জন্য তার পরিবারের কাছে প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। বিয়ের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে সাইদুল রাবেয়াকে বিভিন্নভাবে বিয়ে করার জন্য চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সাইদুলকে বাসায় এসে পড়ানোর জন্য নিষেধ করে দেওয়া হয়।

জানা যায়, সাইদুল সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসায় প্রবেশ করে রাবেয়াকে ছুরি দিয়ে মাথা, গলা, হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। তার চিৎকারে মা ও দুই বোন দৌড়ে রাবেয়া আক্তারের ঘরে গিয়ে দেখেন, সাইদুল ছুরি দিয়ে তখনো রাবেয়াকে ছুরিকাঘাত করছেন। এ সময় বাধা দিলে ছুরি দিয়ে তিনি অন্যদেরও আঘাত করে পালিয়ে যান সাইদুল।

রাবেয়ার বাবা আবদুর রউফ বলেন, সাইদুল আমাদের গৃহশিক্ষক ছিল। ছোট দুই মেয়েকে সে কোরআন পড়াত। সে আমার বড় মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলে আমরা সরাসরি না করে দিই। যার কারণেই সে বাড়িতে ঢুকে আমার মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

গুরুতর অবস্থায় রাবেয়াকে স্থানীয় ব্যক্তিরা শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রাবেয়ার মা। আহত হয়েছে রাবেয়ার ছোট তিন বোন।

রাবেয়াদের প্রতিবেশী মাহমুদুল হক বলেন, গত সোমবার রাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে তাদের ঘরের দিকে গেলে দেখতে পাই শিক্ষক সাইদুল দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে রাবেয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রক্তাক্ত ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১১/০৫/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তা’য় 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.