নিউজ ডেস্ক।।
মাহে রমজান। মুসলিম উম্মাহর প্রতি আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত ও অনুকম্পার মাস। রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস এই রমজান। পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম উম্মাহর সঠিকভাবে রোজা পালন করা উচিৎ।
সঠিকভাবে ইসলামিক বিধান মোতাবেক রোজা পালন করতে যে সকল বিষয়গুলো অবশ্যই জানতে হবে- তার মধ্যে রয়েছে, রোজা কাজা, রোজা ভঙ্গ ইত্যাদি বিষয়। যেসব কাজ করলে রোজা ভাঙবে না- তা-ই আজকের আলোচনা বিষয়বস্তু।
১. ভুল করে কোনো কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ভঙ্গ হবে না। (সহীহ বোখারী : ২৫৯)।
২. মশা-মাছি বা কীটপতঙ্গ ইত্যাদি অনিচ্ছাকৃতভাবে পেটের ভেতর ঢুকে গেলেও রোজা ভাঙবে না। (ইবনে আবি শাইবা : ৬/৩৪৯।
৩. অনিচ্ছাকৃত বমি হলে (এমনকি মুখ ভরে হলেও) রোজা ভাঙবে না। তেমনি বমি মুখে এসে নিজে নিজেই ভেতরে চলে গেলেও রোজা ভাঙবে না। (জামে তিরমিজি : ১/১৫৩)।
৪. রোজার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করলে রোজা নষ্ট হবে না। তবে রোজা স্মরণ হওয়ামাত্র পানাহার ছেড়ে দিতে হবে। (সহীহ মুসলিম : ১/২০২)।
৫. দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে পেটের মধ্যে না গেলে রোজা ভাঙবে না। (ফতোয়ায়ে শামী : ৩/৩৬৭)।
৬. কোনো খাদ্যদ্রব্য বুট বা ছোট ছোলার কম পরিমাণ যদি দাঁতের সঙ্গে লেগে থাকে ও গলার ভেতর চলে যায়, তাহলে রোজা ভাঙবে না। তবে দাঁত থেকে বের করে হাতে নিয়ে স্বেচ্ছায় খেয়ে ফেললে রোজা নিশ্চিতভাবে ভেঙে যাবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০২)।
৭. অতিরিক্ত গরম বা পিপাসার কারণে যদি গোসলের মাধ্যমে শরীরকে ঠাণ্ডা করা হয়, তাহলেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৩)।
৮. কুলি করার পর পানির অবশিষ্ট আর্দ্রতা থুথুর সঙ্গে গিলে ফেললে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৩)।
৯. ঘাম অথবা চোখের অশ্রুর দু-এক ফোঁটা যদি অনিচ্ছায় মুখে চলে যায়, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৩)।
১০. কানের ময়লা বের করার দ্বারাও রোজা ভাঙবে না। (মারাকিল ফালাহ : ৩৪২)।
১১. যদি পান খাওয়ার পরে খুব ভালোভাবে কুলি করার পরও রোজা অবস্থায় থুথুর সঙ্গে লাল রং বের হয়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৩)।
১২. নাক এত জোরে সাফ করা, যার ফলে কফ গলার মধ্যে চলে যায়, তাহলেও কোনো সমস্যা নেই। (দুররে মুখতার : ৩/৩৭৩)।
১৩. রোজা অবস্থায় আঁতর বা ফুলের ঘ্রাণ নিলেও কোনো সমস্যা নেই। (মারাকিল ফালাহ : ৩৬১)।
১৪. শরীর বা মাথায় তেল ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে না, বরং তা বৈধ। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক : ৪/৩১৩)।
১৫. রোজা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃত মুখের মধ্যে ধুলাবালি ঢুকে গেলে রোজা ভাঙবে না। (দুররে মুখতার : ৩/৩৬৬)।
১৬. যদি রোজাদারের গোসলের সময় অথবা বৃষ্টিতে ভেজার সময় কানের মধ্যে অনিচ্ছায় পানি চলে যায়, তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে রোজা নষ্ট হবে না। (ফাতহুল কাদির : ২/৩৪৭)।
১৭. সুস্থ অবস্থায় রোজার নিয়ত করার পর যদি অজ্ঞান, অচেতন বা পাগল হয়ে যায়, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না। (সুনানে কুবরা বায়হাকি : ৪/২৩৫)।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৭/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
