এইমাত্র পাওয়া
প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান

সনদ জাল করে কর্মচারী নিয়োগ দিলেন প্রধান শিক্ষক!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুরঃ জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বারাংকুলা উচ্চ বিদ্যালয়ে (ইআইএন নং ১০৮৬০৪) জন্ম সনদ জ্বাল করে আয়া নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৪-৫ বছর পূর্বে একটি ভুয়া ও বানোয়াট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটিকে পাশ কাটিয়ে মোসা. রুবিয়া বেগমের বয়স পরিবর্তন করে অবৈধ নিয়োগ প্রদান করেন প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান জজাল= সনদ দিয়ে মোসা. রুবিয়া বেগমকে এমপিওভূক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) করেন। যার ইনডেক্স নং এন৫৬৮১৪৩৫৭। রুবিয়া বেগমের জন্ম তারিখ ০১.০২.১৯৭১ যা কম্পিউটারের মাধ্যমে এডিট করে ০১.০২.১৯৮৫ করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় জন্ম তারিখ পরিবর্তন করায় রুবিয়া বেগম তার নিজের মেয়ের বয়স থেকেও ছোট হয়ে গেছে।

রুবিয়া বেগমের একটি ‘জাতীয় পরিচিতি বিবরণ’ এ দেখা যায় তার জন্ম তারিখ ০১.০২.১৯৭১। পিতার নাম জয়নাল শেখ এবং মাতার নাম রহিমা বেগম, স্বামীর নাম মো. গিয়াস উদ্দীন মিয়া। জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৪৬১৬২৮৭২৪১। ঠিকানা বারাংকুলা, আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর। অনলাইন জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইতেও একই তথ্য পাওয়া যায়।

নিয়োগ বিধিতে দেখা যায়, আয়া পদে বয়সসীমা অনুর্ধ্ব ৩৫ বছর। ভোটার তালিকায় দেখা যায়, রুবিয়ার এক মেয়ে মোসা. জাম্বিয়া বেগমের জন্ম তারিখ ০২.০১.১৯৮০, আরেক মেয়ে মোসা. স্মৃতি পারভিনের জন্ম তারিখ ০৭.১১.১৯৮৭। যেখানে এমপিও শিটে রুবিয়ার জন্ম তারিখ ০১.০২.১৯৮৫। রুবিয়া বেগম ২০২২ সালের ২ এপ্রিল এফিডেভিটের মাধ্যমে জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে ০১.০২.১৯৭১ এর স্থলে ০১.০২.১৯৮৫ করে। পরে এফিডেভিটের কাগজ দিয়ে ২৭.০২.২০২২ সালে নতুন জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে। ৩০.০৮.১৯৯৯ তারিখের পরিচালনা পর্ষদের সভায় রুবিয়া বেগমের নিয়োগ হলেও ২০২২ সালে জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে তাকে এমপিওভূক্ত করা হয়।

অপরদিকে প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে শাহানারা খানমকে জাল সনদে কম্পিইটার শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ ৮ বছর ওই শিক্ষকের বেতনভাতা বন্ধ থাকে। ০৭.০২.২০২১ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শাহানারা খানমের জাল সনদের বিষয়টি পরিসমাপ্তি ঘটায়। এরপর তিনি বেতনভাতা ফিরে পান। কিন্ত পরবর্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত জাল সনদধারী শিক্ষকদের তালিকায় তাঁর নাম এসেছে। যে তালিকা একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রকাশ করে। তালিকার ২৩ নং ক্রমিকে সাহানারা খাতুনের নাম রয়েছে।

এফিডেভিটের মাধ্যমে বয়স পরিবর্তন করে চাকরিতে নিয়োগের বিষয়টি স্বীকার করে রুবিয়া বেগম বলেন, তার নিয়োগে কোন প্রকার অনিয়ম হয়নি। ভুল করে তার বয়স বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যা পরে সংশোধন করা হয়। স্কুলের নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এলাকার কেউ কেউ এমন অভিযোগ করে।

কম্পিউটার শিক্ষক সাহানারা খাতুন জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর সনদ যাচাই-বাছাই করে জাল সনদের অভিযোগ অব্যহতি দিয়েছে। সেই অনুযায়ী আমার বেতন ভাতা ফেরত পেয়েছি। পরবর্তীতে তাঁর নাম সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি।

বারাংকুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান অনিয়ম দুর্নীতির সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সম্প্রতি স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে পরাজিত একটি পক্ষ হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করছে। আমি স্কুলের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। এতো অনিয়ম দুর্নীতি করলে এখানে থাকতে পারতাম?

আলফাডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রতন মিয়া বলেন, যখন তাদের নিয়োগ হয়েছিল তখনতো আমি ছিলামনা। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/০৪/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.