সদ্য ঘোষিত ২৭৩০ প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির বিষয়ে নানা অসঙ্গতি এবং জনমনে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন দানা বাঁধেছে। কিছু অযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানএমপিওভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এনিয়ে নড়েচড়ে বসেছে সরকারও। তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে কিছু অনলাইনে প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত তথ্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। এনিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও করা হচ্ছে। কমিটি দুটি কাঠামো ঠিক করে সোমবার ফাইল উপরে পাঠানো হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আজই এ সংক্রান্ত ফাইলের অনুমোদন দেয়ার কথা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির। কারণ আজ জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপুরে তার ব্যক্তিগত কাজে ভারতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনেও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, কোনো কোনো আবেদনকারী ভুল তথ্য দিয়ে এমপিওর তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে স্বাধীনতা বিরোধীদের নামে পাওয়া প্রতিষ্ঠানের নাম বদল করতে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আবেদন চান মন্ত্রী।
সূত্র জানিয়েছে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিও হওয়ার প্রমাণ মিললে এমপিও স্থগিত করা হবে। একই সঙ্গে আগামীতেও এসব প্রতিষ্ঠান যাতে এমপিওভুক্ত হতে না পারে এজন্য ‘ব্লক’ করে দেওয়া হবে। আর যাচাই বাছাই করার জন্য এমপিওপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হার্ড কপি সংগ্রহ করা হবে।
তথ্য যাচাইবাছাই করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) জাবেদ আহমদের নেতৃত্বে একটি কমিটি হচ্ছে। কমিটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) মহাপরিচালক, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মস্ত্রণালয়ের এমপিও শাখার সংশ্লিষ্টরা থাকবেন।
অন্য আরেকটি কমিটির প্রধান থাকবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। সেখানে মাউশি অধিদপ্তরের ৯টি আঞ্চলিক উপ-পরিচালক, স্কুল-কলেজ পরিদর্শক এবং জেলা শিক্ষা অফিসাররা থাকবেন। প্রথম কমিটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই, দ্বিতীয় কমিটি শিক্ষকদের তথ্য যাচাই-বাছাই করবেন।
এদিকে নতুন এমপিওভুক্তির জন্য গত বছরের আগস্টে আবেদন করে নয় হাজার ৬১৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মধ্যে দুই হাজার ৭৩০টি প্রতিষ্ঠানকে ২৩ অক্টোবর এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়। এরমধ্যে ২০৪টি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ বিবেচনায় এমপিও দেয়া হয়েছে। সেই হিসাবে সাত হাজার ১৫টি প্রতিষ্ঠানই অযোগ্য। তার মানে তথ্য যাচাইয়ের জন্য সময় পেয়েছে এক বছরেরও বেশি। যাচাই-বাছাই কমিটির প্রধান ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জাবেদ আহমেদ।
নীতিমালা অনুযায়ী চার শর্ত পূরণকারী প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেয়া হয়েছে। শর্তগুলো হলো- প্রতিষ্ঠানের বয়স বা স্বীকৃতির মেয়াদ, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের হার। প্রতিটি পয়েন্টে ২৫ করে নম্বর থাকে। কাম্য শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং স্বীকৃতির বয়স পূরণ করলে শতভাগ নম্বর দেয়া হয়। সর্বনিম্ন ৭০ নম্বর পাওয়া প্রতিষ্ঠানও এমপিওভুক্তির জন্য বিবেচিত হয়েছে। এবার আবেদন করা প্রায় ৭২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান যোগ্যতা ও শর্তপূরণ করতে না পারায় এমপিও পায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই অনলাইনে তথ্য দিয়েছে। কিন্তু এমপিও তালিকা প্রকাশে দেখা গেছে, তথ্য যাচাই হয়নি। এ কারণে প্রায় অর্ধশত অযোগ্য অথবা প্রায় অস্তিত্বহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবার এমপিওভুক্ত হয়েছে। ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত, শিক্ষার্থী নেই, পাস নেই, স্কুল ঘর নেই এবং সরকারি হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানও এমপিও পেয়েছে। এতে বোঝা যায় তালিকা যাচাই-বাছাই কতটা উদাসীনভাবে হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
