এইমাত্র পাওয়া

নতুন এমপিও তালিকায় অসন্তুষ্টি সরকার ও দলে

গত বুধবার নতুন করে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত করা এ তালিকা গণভবন থেকে ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এমপিওভুক্তির এ তালিকা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে সরকার ও দলে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়াামী লীগের ধানম-ির রাজনৈতিক কার্যালয়েও কথা উঠেছে এমপিও তালিকা নিয়ে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে খবরটি জানা গেছে।

দুজন মন্ত্রী বলেন, গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের সাইডলাইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা নিয়ে কথা ওঠে। দুজন প্রতিমন্ত্রী তাদের মায়ের নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়নি বলে জানান। এ সময় আওয়ামী লীগের এক সভাপতিম-লীর সদস্য ও মন্ত্রী এবং পুরনো একজন প্রতিমন্ত্রীও জানান, তাদের মায়ের নামের প্রতিষ্ঠানও ঠাঁই পাইনি এমপিও তালিকায়। অথচ

শহীদ জিয়াউর রহমানের নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতার নামের প্রতিষ্ঠানও এমপিওভুক্তি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বাবু গতকাল সোমবার বিকালে বলেন, এমপিও তালিকা নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোনো কথা হয়নি। তবে বৈঠকের সাইডলাইনে আমরা কয়েকজন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে কথা হলে নিশ্চয়ই মন্ত্রিপরিষদ সচিব ব্রিফিংয়ে বিষয়টি উল্লেখ করতেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানম-ির রাজনৈতিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত সাব কমিটিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসে অর্থ উপকমিটি। এতে সাব কমিটিগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ।

ওই বৈঠকে উপস্থিত কয়েক নেতা বলেন, আলোচনার একপর্যায়ে ঝিনাইদহের মহেশপুরের শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য। তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলকে অবৈধ ঘোষণা করেছে উচ্চ আদালত। সেই জিয়াউর রহমানের নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে তাকে সরকারি গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে ‘শহীদ জিয়াউর রহমান’ হিসেবে সেই প্রতিষ্ঠানকে কী করে আমরা স্বীকৃতি দিতে পারি? আমাদের সরকারের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিভাবে ‘শহীদ জিয়াউর রহমান’ লেখা একটা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী জাফরউল্লাহ গতকাল  বলেন, আমাদের মিটিংয়ের সাইডলাইনে এমপিওভুক্তির বিষয়টি নিয়ে কথা উঠেছিল। আমি অতটা খেয়াল করিনি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের এমপিও তালিকা রাজনৈতিক বিবেচনায় করা হয়নি  শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির এমন বক্তব্য স্বাভাবিকভাবে নেওয়া হয়নি দল ও সরকারে। বিশেষ করে যেখানে যুদ্ধাপরাধের মামলায় অভিযুক্তদের নামের প্রতিষ্ঠান, জিয়াউর রহমানকে শহীদ লেখা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে; সেখানে শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্যে অসন্তুষ্ট আওয়ামী লীগের অনেকেই।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি আলহাজ ঝুনু মিয়ার নামে নামকরণ করা আলহাজ ঝুনু মিয়া হাইস্কুল নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে এমপিওভুক্ত হয়েছে। পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা ৭১-এর শান্তি কমিটির সদস্য খামির উদ্দিন প্রধানের নামে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটির আলিম স্তর এবার এমপিওভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া হিলফুল ফুজুল জামায়াতে ইসলামীর এনজিও নামে পরিচিত। তাদের পরিচালিত ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের হিলফুল ফুজুল টেকনিক্যাল ও বিএম কলেজ, নেত্রকোনার কমলাকান্দায় হিলফুল ফুজুল দাখিল মাদ্রাসাও এমপিওভুক্ত হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চেয়ে গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.