অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন

পাবনার চাটমোহর সরকারি কলেজে শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন শুরু করেছেন। গত বৃহস্পতিবার শিক্ষক-কর্মচারীরা এই কর্মসূচি শুরু করেন। শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসে তারা প্রতিবাদ সভা করেছেন।

অফিস সহকারী কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্ছিত, অধ্যক্ষ কর্তৃক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের ও পদ সৃজনের জন্য শিক্ষকদের আত্মিকরণের ফাইল সংশ্লিষ্ট দপ্তরে না পাঠানোর প্রতিবাদে, মামলা প্রত্যাহার ও অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে শিক্ষকরা এসব কর্মসূচি পালন করছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান অবশ্য দাবি করেছেন শিক্ষক লাঞ্ছিত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর ক্লাস বর্জনের বিষয়টি তার জানা নেই।

কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন মোস্তফা কামাল, বিকাশ মৈত্র, লিলি আকতার, রাবেয়া খাতুন প্রমুখ।

বক্তারা অধ্যক্ষকে দুর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে তার অপসারণ দাবি করেন। তারা অধ্যক্ষ কর্তৃক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যে মামলা দায়েরের প্রতিবাদ জানান।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, কলেজ সরকারিকরণের পর থেকেই অধ্যক্ষ পদসৃজন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করেন। শিক্ষকদের আত্মিকরণ ফাইল নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে না পাঠিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নিতে থাকেন। শিক্ষকরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ভুয়া শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবি করেন।

শিক্ষক-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের পদ সৃজনের ফাইল গত ৭ মের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শেষ দিন হলেও আজ পর্যন্ত তা পৌঁছানো হয়নি। অধ্যক্ষ কলেজ সরকারিকরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।

বেশ ক’জন শিক্ষক বলেন, চাটমোহরের সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ এই কলেজটি এখন অধ্যক্ষের গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। তার কারণেই কলেজটি জাতীয়করণ প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে বসেছে। কলেজের অধ্যক্ষের কম যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকায় তিনি সরকারিকরণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের অপসারণ দাবিতে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী কালো ব্যাজ ধারণ,মৌন মিছিল,অবস্থান কর্মসূচি, পোস্টারিং করা, লিফলেট বিতরণ, মানববন্ধন, ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছেন।

অফিস সহকারী আবদুর রাজ্জাক তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কোনো স্যারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অসত্য। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, কোনো শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেনি। আমার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের একাংশ মানহানিকর নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ইতিপূর্বে লিফলেট ও পোস্টারিং করা ছাড়াও ক্লাস বর্জন পর্যন্ত করেছেন। অথচ তাদের অনেকেরই কাগজপত্র সঠিক নেই।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.