নিউজ ডেস্ক।।
বরগুনা সদরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইটবাড়িয়া কদমতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের শ্রেণিকক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে পাঠদান করছে দীর্ঘদিন ধরে। জেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিবছর ভালো ফলাফল অব্যাহত থাকলেও ১২ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ছোট্ট পরিসরের মাত্র তিনটি কক্ষসহ নানাবিধ সংকটের মধ্যদিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিতে।
অভিযোগ রয়েছে, স্কুল থেকে সংকটের বিষয়টি বারবার তুলে ধরা হলেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে উদাসীন।
বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের কদমতলা বাজারের প্রাণকেন্দ্রে ৫ একর ৪৩ শতাংশ জমির উপর ১৯৬৪ সালে স্থাপিত এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৯ সালে এমপিওভুক্ত হয়। পড়াশোনা করছে ১২ শতাধিক শিক্ষার্থী। ২১ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে ১৪ জন কর্মরত আছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে ৬ কক্ষ বিশিষ্ট একটি দ্বিতল ভবন থাকলেও সেটির অবস্থাও আশঙ্কাজনক। জরাজীর্ণ এ ভবনটি যেকোনো মুহূর্তে ধ্বসে বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে টিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ভবনে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকেরা। এখানে সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। ফলে বই—খাতাসহ শিক্ষার্থীরা ভিজে যায়। বাধ্য হয়েই মাঝে মাঝে ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়।
এ প্রসঙ্গে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিন জাহান বলেন, তীব্র গরমে টিন দিয়ে তৈরি শ্রেণিকক্ষের এক একটি ছোট বেঞ্চে ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে চরম অস্বস্তিতে আমাদের পড়াশোনা করতে হচ্ছে। এ কারণে প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ ক্লাসে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শ্রেণি কক্ষের অভাবে পাঠদান চরম বিঘ্নিত হচ্ছে।
আল মামুন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বৃষ্টির মৌসুমে ভাঙা চাল দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ স্যাঁতসেঁতে হয়ে হয়ে যায়, বৃষ্টির ঝাপট আসো। ফলে বই—খাতা ভিজে যায়। আবার একটানা দীর্ঘ সময় গাদাগাদি করে ক্লাস করার কারণে মাথা ঝিমঝিম করে। এভাবে ক্লাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
শ্রেণিকক্ষ সংকটের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আলহাজ মো. বশির উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের নিজস্ব পর্যাপ্ত জমি থাকা সত্ত্বেও বহুতল ভবনের অভাবে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমরা ভীষণ কষ্ট করে কোনোমতে ক্লাস এবং পরীক্ষা চালিয়ে নিচ্ছি। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে আসেন, কক্ষ সংকটের কারণে তারাও বিপাকে পড়েন।
এ বিষয়ে বরগুনা—১ আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, পাঠদানের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ইটবাড়ীয়া কদমতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের জন্য একটি ভবন স্থাপনের জন্য আমি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবো।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
