অধ্যাপক মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ।।
বহুল আলোচিত নুসরাত হত্যার রায়ে ষোল আসামির ষোল জনেরই ফাঁসির আদেশ হয়েছে, যাদের বার জনেরই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ সবারই নুসরাত হত্যায় গুরুতর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়।
নিষ্ঠাবান ও পরিশুদ্ধ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন আলিমগণ হলেন পবিত্র ওয়াহির ধারক-বাহক এবং হাদিসের ভাষায় ‘নবীদের উত্তরাধিকার’। আমি মাদ্রাসা পটভূমির (back ground) মানুষ, আমার অধ্যাপনায় কেটে গেল জীবনের ২৭ বছর। অথচ যখন শুনি, নুসরাত হত্যার সংশ্লিষ্টতায় ‘আলিম’ ‘হাফিজ’ ও ‘শিক্ষক’ নামের পরিভাষাসমূহ যুক্ত! তখনই প্রশ্ন জাগে ‘এ কী অবস্থা…!!
নুসরাতের মৃত্যু নিছক অগ্নিকান্ড বা দুর্ঘটনা নয়, বরং ইচ্ছাকৃত ও নির্মম হত্যাকান্ড। ইসলামের দৃষ্টিতে আইন বহিঃর্ভূত হত্যাকাÐ মহাপাপ। মহান আল্লাহ্ বলেন “…বিচারের রায় ছাড়া যদি কেউ কোনো মানুষকে হত্যা করে, তা হলে সে যেন সমস্ত মানুষকে (মানবতাকে) হত্যা করেছে” (মায়েদা:৩২)। পবিত্র কুরআনে আরো আছে “আল্লাহ্ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করো না। আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয় আমি তার উত্তরাধীকারীকে অবশ্যই এর প্রতিকারের অধিকার দিয়েছি…..” (বানি ইসরাইল: ৩৩)।
ইসলামে রয়েছে দৃষ্টান্তমূলক ও প্রকাশ্য শাস্তির বিধান। নারী অধিকার রক্ষা ও নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির বিধান নির্ধারণ করে তা কার্যকরের পদ্ধতি প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের ঘোষণা “….আল্লাহ্র বিধান কার্যকর করবার ক্ষেত্রে তাদের (অপরাধী) প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহ্র প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। আর মু’মিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে” (নুর: ০২)।
দুঃখজনক বাস্তবতা, নুসরাতের মাদ্রাসার অধ্যক্ষও বাহ্যত ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত! কিন্তু ঐ নরপশুর লালসার শিকার হয়ে মরতে হলো অমিত সম্ভবতার এক মেধাবি ও নিরিহ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে। আফসোস ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ কেনো এমন হয়? এখানেই পবিত্র কুরআনের বাণীর নিত্যতা ‘ওরা তো পশু বরং তার চেয়েও অধম’।
জ্ঞানভিত্তিক মহান পেশা- শিক্ষকতা। মহান আল্লাহ্ বলেন “যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে”? (যুমার: ০৯) তিনি আরো বলেন “যাকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তাকে প্রভুত কল্যাণ দান করা হয়েছে” (বাকারা: ২৬৯)। জ্ঞানের কারণেই মানুষ হয় নন্দিত, যার মূল উৎস ‘ওয়াহি’ এবং প্রিয়নবীর (স.) ‘সুন্নাহ’। প্রিয়নবী (স.) নিজেকে বলতেন “‘শিক্ষক’, ‘বু-ইস্তু মু’আল্লিমান’ অর্থাৎ আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে” (ইব্নু মাজাহ্)।
অবাক বিষয় হলো মাদ্রাসায় নৈতিকতা, ধার্মিকতার চর্চ হবার কথা। মাদ্রাসার পরিবেশ মানুষকে পরিশুদ্ধ হতে বলে- আদর্শ মানুষ হতে শেখায় এবং পাপ ও পতন থেকে বাঁচায়। অথচ আমার স্নেহের ছাত্রীতুল্য হতভাগা নুসরাতের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা নিতান্তই এক নরপুশুর নিষিদ্ধ লালসার প্রকাশ মাত্র।
আর পবিত্র কুরআনের সতর্কবাণী “হে ঈমানদারগণ, শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে” (আন-নূর : ২১)। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবার ফলেই বেপরোয়া ও বিভ্রান্ত হয়েছে ঐ অধ্যক্ষ এবং ওর উচ্ছিষ্টভোগীরা!
পরিশেষে আমি সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নুসরাত হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরের প্রত্যাশা করি ও দাবি জানাই।
লেখক: বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া গাজীপুর ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
