এইমাত্র পাওয়া

কুবির ৯ কর্মচারীকে শাস্তি

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পরিষদের ৮ জন ও চতুর্থ শ্রেণি থেকে পদোন্নতি পেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত একজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগে বিভিন্ন শাস্তি দিয়েছে সমিতি৷ গত ২৩ জানুয়ারি (সোমবার) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দিপক চন্দ্র মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ভুক্তভোগীরা শাস্তির বিষয়টি জানতে পারেন।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তদন্ত কমিটি কবে গঠিত হয়, এবং তদন্ত কমিটির সদস্য কারা এমনকি শাস্তি পাবার পূর্বে অভিযোগ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মচারীরা।

কর্মচারী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের ১৩ জন সদস্যের মাঝে বিভিন্ন পদে থাকা ৭ জনের সঙ্গে কথা বললে তাদের কেউই গঠিত তদন্ত কমিটি সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য কিংবা কারা কমিটির সদস্য বিষয়টি জানাতে পারেনি। বরং বিষয়টি নিয়ে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের কথা জানান। তারা বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা জানি শাস্তি দিয়েছে। কাকে দায়িত্ব দিয়েছে সেটা তারা বলতে পারবেন।

বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থে সাংগঠনিক সকল কাজে বিশৃঙ্খলা ও মিথ্যা-গুজব ছড়ানোর অভিযোগে এ কে এম কামরুল হাসানের সদস্যপদ বাতিল ও পরিষদের ২টি নির্বাচনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়।

একই অভিযোগে রসায়ন বিভাগের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (আপগ্রেড) নাছির উদ্দিন ও বাংলা বিভাগের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম ডাটা প্রসেসর (আপগ্রেড) মো. জিয়াউর রহমানের সদস্যপদ স্থগিত ও পরিষদের ১টি নির্বাচনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়।

মার্কেটিং বিভাগের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম ডাটা প্রসেসর মো. হাবিবুর রহমান ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম ডাটা প্রসেসর (আপগ্রেড) মো. আবদুল কাদেরের সদস্যপদ বহাল রেখে ১টি নির্বাচনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়।

এছাড়া এসব অভিযোগে ইন্ধনকারী হিসেবে ফার্মেসী বিভাগের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (আপগ্রেড) মো. আবদুল আউয়ালকে সদস্যপদ বাতিল ও অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়। এস্টেট শাখার বাগান মালী মো. সামছু মিয়াকে ভবিষ্যতে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পরিষদে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং পরিবহন শাখার ড্রাইভার (গ্রেড-২) ও বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শাহিনুর হোসেন ও রেজিস্ট্রার দপ্তরের ডেসপার্স ক্লার্ক মো. আবুল বাসারকে সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তিরস্কার করা হয়।

যদিও কর্মচারী সমিতির গঠনতন্ত্রে সদস্য পদ বাতিলের কারণ হিসেবে বলা হয়, গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজ, পরপর তিন মাস মাসিক চাঁদা পরিশোধ না করা, চাকুরি থেকে পদত্যাগ করলে, অবসর গ্রহণ করলে, বহিস্কৃত হলে, মৃত্যুবরণ করলে, মানসিক বিকৃতি ঘটলে কিংবা পরিষদের অর্থ ও সম্পত্তি তছরূপ কজরা প্রমাণিত হলে তার সদস্যপদ বাতিলের কথা বলা হয়।

তবে আলোচিত ৯ সদস্যকে শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে উপরের কোনো বিষয় উল্লেখ করা হয়নি।

কিন্তু তদন্ত কমিটি কবে এবং কততম সভায় গঠিত হয় সে বিষয়ে কথা বলতে চাইলে কল রিসিভ করেননি সমিতির সভাপতি দিপক চন্দ্র মজুমদার। অপরদিকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেন নি খোদ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন।

সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন জানান, ‘আমরা যাই করেছি গঠনতন্ত্র মেনে করেছি। তবে গঠনতন্ত্রের কোন ধারা-উপধারা অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটি তাদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা উল্লেখ করলে তিনি জানান, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা আর আমাদের সুযোগ-সুবিধা এক নয়। কাজেই তারা কি করবে কিংবা করবেনা সেটি আমরা জানতে চাই না৷

তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য মো. হানিফ যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের অপরাধ তদন্তে কমিটিতে থাকতে পারেন কিনা জানতে চাইলে মহসিন জানান, অবশ্যই পারে। অধ্যাপকের বিরুদ্ধে গঠিত কোনো তদন্ত কমিটিতে প্রভাষক যদি থাকতে পারেন তাহলে এখানেও পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির সভাপতি সরোয়ার মোর্শেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম হাওলাদার এবং চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, কর্মচারী সমিতি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারেন না। তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের সাক্ষাৎকার নিতে হবে। তার জন্য চিঠি প্রেরণ করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। এখানে যা হয়েছে সম্পূর্ণ মনগড়া ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে।

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মহিউদ্দিন খন্দকার জানান, সদস্যপদ বাতিল করতে হলে সাধারণ সভায় সেটি পাস করিয়ে নিতে হবে। আবার শাস্তি প্রদান করতে হলে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে তিনবার। মনগড়া সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে কোন পদ্ধতিতে তদন্ত করা হয়েছে? এবং অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের হিসাব কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন চৌধুরী প্রতিবেদকের সাথে উচ্চবাচ্য করেন এবং সাংবাদিকদের তথ্য দিতে বাধ্য নয় বলে জানান।

সমিতির দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, যিনি গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব, তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কার্যকরী পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়ে যদি আমাকে দায়িত্ব দেয় তাহলে কি আইনের কোনো বাধা আছে! আর এই বিষয়ে কমিটির অন্যান্য সদস্যদের না জানার বিষয়ে কোনো প্রমাণ নেই। যারা বলেছে তদন্ত কমিটির বিষয়ে তারা জানে না, আপনি তাদের সঙ্গে আবার কথা বলেন। এরপর কথা বলতে অনাগ্রহতা প্রকাশ করে তিনি ফোন কেটে দেন।

সদস্য পদ বাতিল হওয়া ২০১৮-১৯ সেশনে সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করা কামরুল হাছান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি এ বছর সভাপতি পদে নির্বাচন করব। এ বিষয়টি সবাই জানে। মূলত আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে মনগড়া শাস্তি প্রদান করা হয়েছে৷ আমি এ সিদ্ধান্ত মানি না। তারা নিজেরা কমিটি করেছে, নিজেরাই শাস্তি প্রদান করেছে। আমাদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। আমরা প্রয়োজনে হাইকোর্ট পর্যন্ত যেতে চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আমিরুল হক চৌধুরী বলেন, আমি অসুস্থ থাকায় কয়েকদিন অফিসে আসতে পারিনি। তবে বিষয়টি কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অফিসিয়াল কাজে গাফলতি বা অন্য কোনো কারণে শাস্তি প্রদান করা হয়নি। তারা তাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাজ করেছে।

তবে গঠনতন্ত্রে এমন কিছু নেই তবুও কেনো শাস্তি এবং সমিতির দপ্তর সম্পাদক তদন্ত কমিটিতে থাকতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ছুটিতে আছি। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে বেশি কিছু বলতে চাই না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১০/০২/২৩    


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.