বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক।।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা ভালো মন্দের তফাৎ করতে পারবে। ভাবতে শিখবে। তাকে আর চাইলেই কেউ অপকর্মে যুক্ত করতে পারবে না। মগজ ধোলাই করতে পারবে না। যারা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ায়, ধর্মের ভয় দেখিয়ে প্রগতির পথ থেকে পিছু টেনে রাখে, তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই করতে পারবে না। সেজন্যই নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে তাদের এত শঙ্কা।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ হলে জাতীয় শিক্ষা-সেবা পরিষদ (জাশিপ)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাসিপের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য ও দেশ বরেণ্য শিক্ষাবিদরা আলোচনায় অংশ নেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৩ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের ফলে ছাত্রছাত্রীরা অনুসন্ধানী হবে, চিন্তা করতে শিখবে, সমস্যা নিরূপণ করতে শিখবে। যোগাযোগের দক্ষতা বাড়বে, জানা-শোনার মধ্যে দিয়ে তারা সুনাগরিক হয়ে উঠবে। সবচেয়ে বড় বিষয় কোচিং ব্যবসায় অবসান ঘটবে। এজন্য একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী যারা ধর্মের নামে জ্ঞান-বিজ্ঞান, মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে দমন করে রাখতে চায় তারা নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে মিথ্যাচার করছে, অপপ্রচার করছে, গুজব রটাচ্ছে। তাদের সাথে এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠীও যুক্ত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীদের দক্ষ, সৃজনশীল ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে যারা বাধা দিতে চায় তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজিত আলোচনা সভায় ‘জাশিপ: মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জাতীয় উৎকর্ষের রূপরেখা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. হাসনান আহমেদ। তিনি বলেন, দেশে জাতীয় মূল্যবোধসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি করা। স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বিশেষে প্রতিটা পর্যায়ে গুণগত এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়া। ব্যবসায়, কারিগরি ও বিজ্ঞানমুখী আধুনিক শিক্ষার সম্মিলনে সমন্বিত শিক্ষার ব্যবস্থা করে জীবনমুখী শিক্ষা, কর্মমুখী শিক্ষা ও মানবিক গুণাবলি সঞ্চারক শিক্ষা চালু করাই জাতীয় শিক্ষা-সেবা পরিষদের উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম ও দেশসেবার মনোভাব জাগ্রত করা, শিক্ষার মাধ্যমে ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবতা, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা প্রভৃতি মানবিক গুণাবলি ছাত্র-ছাত্রীদের মনে জাগিয়ে তুলতে চায় জাতীয় শিক্ষা-সেবা পরিষদ।
হাসনান আহমেদ আরও জানান, শিক্ষা ও সেবার মান উন্নয়ন এবং জীবনমুখী, কর্মমুখী ও মানবিক গুণাবলী সঞ্চারক শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে সরকার ও যেকোনো সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে গঠনমূলক আলোচনা, শিক্ষানীতি তৈরিতে সরকারকে সহযোগিতা করবে জাতীয় শিক্ষা-সেবা পরিষদ।
এছাড়া দেশে শিক্ষা ও সেবার মান উন্নয়নে নীতিমালা ও জনসচেতনতা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, কনফারেন্স, গোলটেবিল বৈঠক নিয়মিত আয়োজন এবং জনমত গঠনে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
