এইমাত্র পাওয়া

পরিবেশদূষণে দেশে মারা যাচ্ছে ৩২ শতাংশ মানুষ

নিউজ ডেস্ক।।

বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত কারণে বছরে মৃত্যুবরণ করে ৩২ শতাংশ মানুষ। পাশাপাশি বায়ু দূষণের কারণে বছরে ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির ৯ ভাগ। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংক ‘কান্ট্রি ক্লাইমেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট’-এ এসব তথ্য প্রকাশ করে। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের টেকশই উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক জন রুম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বছরে ক্ষতি হয় ১ বিলিয়ন ডলার। মোট জিডিপির যা প্রায় শূন্য দশমিক ৭ ভাগ। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি এবং বৃষ্টিপাত ৪ ডিগ্রি বাড়লে ২০২৫ সালে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বাড়তে পারে ২৭ সেন্টিমিটার। এভাবে সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বাড়লে বাড়বে সম্পদহানি, যার মূল্য আনুমানিক ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

বিশ্বব্যাংক বলছে, নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ না নিলে ২০৫০ সাল নাগাদ জিডিপির এক তৃতীয়াংশ কৃষি জমি হারানোর শঙ্কা রয়েছে। বাস্তুচ্চ্যুত হবে ১৩ মিলিয়ন মানুষ। ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি খাতকে সমানভাবে এগিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থটি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দেশে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে। যেভাবে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে এই ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। গুরুতর বন্যার মুখে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ভিত্তিরেখার তুলনায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এ ছাড়া এ সময়ের মধ্যে কৃষি খাতে জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ কমতে পারে। বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বছরে বাংলাদেশের দরকার ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলার।

বক্তারা বাংলাদেশের বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার, আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা, কার্বন কর আরোপ এবং বেসরকারি খাতকে এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোতে গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, এটা না হলে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস ও বৃষ্টিপাত ৪ শতাংশ বাড়লে উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৭ সেন্টিমিটার বা বেশি বাড়তে পারে। এতে উপকূলে সম্পদহানি দ্বিগুণ হতে পারে, যা বছরে ৩০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের চারটি অঞ্চল বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। চারটি অঞ্চল হচ্ছে বরেন্দ্র এলাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, উপকূল ও হাওর এলাকা। জেলা হিসেবে ধরলে হাওরের ময়মনসিংহ জেলার পশ্চিমাংশ, রংপুরের পূর্বাংশ এবং খুলনার দক্ষিণাংশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি জলবায়ুর ঝুঁকিতে আছে। নিয়মিতভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, এমন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের তাই এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার সামর্থ্য বাড়াতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার বলেন, অভিযোজন ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকি বাড়তে থাকায় অভিযোজন প্রচেষ্টা জোরদার করা অত্যাবশ্যক।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.