এইমাত্র পাওয়া

পানি পান করার সাত সুন্নত

  • কে এম ছালেহ আহমদ জাহেরী।।

পানি শব্দটি আক্ষরিক বিবেচনায় ছোট হলেও বাস্তবতায় এর মূল্য কম নয়। পৃথিবীর সব কিছুই মৌলিকভাবে পানির ওপর নির্ভরশীল। সে জন্য পানিকে বলা হয় সব প্রাণের উৎস। সৃষ্টিকর্তার এই অপরূপ ও অপার নিয়ামত, শুধু দেহের পিপাসাই নিবারণ করে না, এটি ব্যবহৃত হয় সৃষ্টির নানাবিধ কাজের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে এবং পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রাখে অনস্বীকার্য অবদান।

রাসূলুল্লাহ সা: পানি পান করার সময় কিছু নিয়ম অনুসরণ করতেন। যা উম্মতের জন্য পালনীয়। ফলে একদিকে যেমন রাসূলুল্লাহ সা:-এর অনুসরণ হবে, অপর দিকে মহান আল্লøাহর নিয়ামতের যথাযথ হক আদায় হবে।
পানি পান করার সময় রাসূলুল্লাহ সা:-এর সুন্নত :

১. পানির পাত্র ব্যবহার করা : রাসূল সা: মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পান করতে বারণ করেছেন (রিয়াদুস সালেহিন-৭৬৭)।

২. পরিষ্কার পাত্রে পানি পান করা : রাসূল সা: এ ব্যাপারে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাতের বেলা পানপাত্র আন্দোলিত না করে (পরিষ্কার না করে) পানি পান করবে না। তবে পাত্র ঢাকা অবস্থায় থাকলে ভিন্ন কথা (ইবনে মাজাহ-৩৪৭১)।

৩. আল্লøাহর নাম নিয়ে পান করা : রাসূল সা: বলেন, ‘যখন তোমরা পানি পান করার ইচ্ছা করবে, তখন শুরুতে বিসমিল্লাহ বলবে এবং শেষে আলহামদুলিল্লাহ’ (তিরমিজি-১৮৮৫)।

৪. ডান থেকে পান করা : রাসূল সা: বলেন, ‘তোমরা বাম হাতে আহার করো না। কেননা, শয়তান এভাবে আহার করে’ (ইবনে মাজাহ-৩২৬৮)।

৫. বসে বসে পান করা : শুধু জমজমের পানি ছাড়া পৃথিবীর সব পানি বসে পান করার নির্দেশ দিয়েছেন রাসূল সা: (মুসলিম-২০২৪)।

৬. তিন শ্বাসে পান করা : রাসূল সা: বলেন, ‘তোমরা কখনো উটের মতো এক চুমুকে পানি পান করো না। বরং তিন শ্বাসে পানি পান করবে’ (তিরমিজি-১৮৮৫)।

৭. গ্লাসে নিঃশ্বাস না ফেলা : রাসূল সা: কখনো পানি পান করার সময় গ্লাসে নিঃশ্বাস ফেলতেন না (বুখারি-১৫৪)।
বাস্তব জীবনে আমাদের আল্লøাহ তায়ালা পানি পান করার সময় রাসূল সা:-এর সুন্নতগুলো মেনে চলার তাওফিক দান করুক। আমীন।

লেখক : শিক্ষার্থী, মৌকারা ডিএসএন কামিল মাদরাসা, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.