নিউজ ডেস্ক।। গত ঈদের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। পদ্মা সেতুর কারণে নির্বিঘেœ মানুষ বাড়ি ফিরবেন এমন আশা ছিল যাত্রীদেরও। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বরং পদ্মা সেতুর সুফল পেতে চাওয়া যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দুর্ভোগ মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর সঙ্গে চলছে ভাড়ানৈরাজ্য। আবার পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলকারী গাড়ির চাপে অন্য রুটের যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েছেন। গত ২৬ জুন পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ ঢাকা ছাড়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। গাবতলী, মহাখালী থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। তাই সায়েদাবাদ দিয়ে মানুষ ছুটতে শুরু করেছেন। লঞ্চে চলা যাত্রীরাও প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু পাড়ি দেওয়ার বাসনা লালন করছেন। তাই সব যাত্রী ও পরিবহনের সংযোগস্থল এখন সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ীকেন্দ্রিক। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেটমুখী যাত্রীরাও এর জেরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বুয়েটের
advertisement
ভাড়ানৈরাজ্য ও যানজটে মানুষের ভোগান্তি
তাওহীদুল ইসলাম
14
Shares
facebook sharing buttontwitter sharing button
৯ জুলাই ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২২ ১২:০৭ এএম
advertisement
গত ঈদের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। পদ্মা সেতুর কারণে নির্বিঘেœ মানুষ বাড়ি ফিরবেন এমন আশা ছিল যাত্রীদেরও। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বরং পদ্মা সেতুর সুফল পেতে চাওয়া যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দুর্ভোগ মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর সঙ্গে চলছে ভাড়ানৈরাজ্য। আবার পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলকারী গাড়ির চাপে অন্য রুটের যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েছেন। গত ২৬ জুন পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ ঢাকা ছাড়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। গাবতলী, মহাখালী থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। তাই সায়েদাবাদ দিয়ে মানুষ ছুটতে শুরু করেছেন। লঞ্চে চলা যাত্রীরাও প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু পাড়ি দেওয়ার বাসনা লালন করছেন। তাই সব যাত্রী ও পরিবহনের সংযোগস্থল এখন সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ীকেন্দ্রিক। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেটমুখী যাত্রীরাও এর জেরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বুয়েটের
advertisement
সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) হিসাবে, ঈদে ১ কোটি ১৫ লাখের মতো মানুষ ঢাকা ছাড়ে। পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও বিআরটিএ সূত্র বলছে, ঈদের মূল চাপ দুই থেকে আড়াই দিনের। এবার ঈদুল আজহার মূল চাপ পড়ছে গতকাল ও আজ। এই দুই দিনে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়বে।
advertisement
ঈদযাত্রার প্রথম সরকারি ছুটির দিন গতকাল শুক্রবার। ভোর থেকেই মানুষ রওনা হয়েছেন যানজটমুক্ত পরিবেশে বাড়ি যাবেন এমন প্রত্যাশায়। বেলা গড়ালে জট বাড়বে এই শঙ্কায় দ্রুত ঢাকা ছাড়তে চান তারা। কিন্তু বিধি বাম। ভোরে রওনা হয়ে সায়েদাবাদ পার হতেই মেলা সময় পার। কারণ মেয়র হানিফ ফ্লাইভার অতিক্রম করাই বড় চ্যালেঞ্জ। এ রকম একজন ঢাকা-কোম্পানীগঞ্জের যাত্রী খাইরুল ইসলাম। ভোর চারটায় রওনা হয়ে সকাল ৯টায় তিনি জানান নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে জ্যামে আছেন। বেলা দেড়টার দিকে তিনি তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেন। কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জে অন্য সময়ে এ রকম দুবার আসা-যাওয়ার সুযোগ পেতেন। কেবল সময় অপচয়ই নয়, ভাড়াও গুনতে হয়েছে দ্বিগুণের বেশি। ১৮০ টাকার বাস ভাড়া ৪০০ টাকা দিয়ে গোমতী পরিবহনে ঢাকা ছাড়েন তিনি। মোটরসাইকেল বন্ধ থাকা, পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় এ রকম ভাড়ানৈরাজ্য চলছে ঈদ উপলক্ষে।
জরুরি ভিত্তিতে এই ভাড়ানৈরাজ্য ও পথে পথে যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে সমিতি। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাজধানীর সিটি সার্ভিসের বাসের ভাড়া কোনো কোনো পথে পাঁচ থেকে ছয় গুণ পর্যন্ত বাড়তি আদায় করা হয়েছে। উত্তরা থেকে সায়েদাবাদে ৫০ টাকার বাস ভাড়া ৩০০ টাকা নিতে দেখা গেছে। শ্যামলী থেকে গুলিস্তানে ৩০ টাকার বাস ভাড়া ২০০ টাকা আদায় করতে দেখা গেছে। ধানমন্ডি থেকে সদরঘাট ২৫ টাকার বাস ভাড়া ২০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। টার্মিনালকেন্দ্রিক নয়, এমন পথে যাত্রীপ্রতি ওঠানামা ভাড়া কোনো কোনো বাসে ৫০ টাকা আবার কোনো কোনো বাসে ১০০ টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। নগরীর প্রতিটি লেগুনা সার্ভিসের ভাড়া কোথাও দ্বিগুণ আবার কোথাও তিনগুণ আদায় করা হচ্ছে। কেরানীগঞ্জের কদমতলী ও সদরঘাট থেকে গুলিস্তান পথে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরত্বে লেগুনা ভাড়া ১৫ টাকা হলেও কখনো ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। একই চিত্র নগরীর সব লেগুনা রুটে দেখা যাচ্ছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছে, রিকশা ভাড়া তিন থেকে চার গুণ বাড়তি আদায় করা হচ্ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা গুলশান, বনানী, বাড়িধারা থেকে স্বাভাবিক সময়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল বা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাতায়াত করা গেলেও গতকাল থেকে এই পথে ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
দুপুর ১২টার দিকে দেখা যায়, গাবতলী বাস টার্মিনালে হাজারো মানুষ আসছেন। কিন্তু কোনো বাসেই টিকিট নেই। এ কারণে অনেকেই হেঁটে আমিনবাজারের দিকে রওনা দিয়েছেন। আবার কেউ-কেউ গরু বিক্রি করে যাওয়া ফাঁকা ট্রাকে করে রওনা দিচ্ছেন। আবার কেউবা বাসের ছাদে করেও যাচ্ছেন। গাবতলীতে মানুষের ঢল। বাস না হেঁটে রওনা হচ্ছেন হাজারো মানুষ। বেসরকারি চাকরিজীবী মো. মাসুমবিল্লাহ চট্টগ্রাম থেকে বেলা ১১টার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনালে আসেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে তিনি যাবেন রংপুর। কিন্তু বাসে কোনো টিকিট না পেয়ে সাভারের চন্দ্রার উদ্দেশে হেঁটে রওনা দেন।
ঈদের আগে ছুটি শুরুর প্রথম দিনে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দক্ষিণের জেলার বাসের টিকিট ফুরিয়েছে বেলা অর্ধেক হওয়ার আগেই, কোনো কোনো কাউন্টারের সামনে বাসও নেই। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণের জেলার বাড়িমুখো যাত্রীরা বহু বছরের ভোগান্তি এড়াতে এবং প্রথমবার সেতুতে ওঠার বাসনায় এবার ঈদযাত্রায় বেছে নিয়েছেন সড়ক পথ। তাই পিরোজপুর, পটুয়াখালীসহ অন্যান্য এলাকার সঙ্গে বরিশাল ও খুলনাগামীদের ভিড় বেড়েছে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে। এ টার্মিনাল থেকে পিরোজপুর, বাগেরহাট, পটুয়াখালী যাতায়াত করা সাকুরা পরিবহনের কাউন্টারে কোনো টিকিট নেই বলে ব্যবস্থাপকরা জানালেন। খুলনা ও বাগেরহাট রুটের ইমা পরিবহনের কাউন্টারেও ‘গাড়ি নাই’ লেখা কাগজ সেঁটে দেওয়া হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
