আদালতের নির্দেশে গত সোমবার থেকে তিন দিনের রিমান্ড শুরু হয়েছিল তাঁদের। রিমান্ডে থাকা তরুণেরা হলেন নড়াইল সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলাম ওরফে রুবেল (২৭), ব্যবসায়ী মো. শাওন খান (২৮), ইজিবাইকচালক সৈয়দ রিমন আলী (২২) ও খুলনা সরকারি বিএল কলেজের সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্র রহমাতুল্লাহ বিশ্বাস। প্রথম তিনজনের বাড়ি মির্জাপুর গ্রামে আর রহমাতুল্লাহর বাড়ি রুখালি গ্রামে।
এ ঘটনায় রহমাতুল্লাহর ছাত্রত্ব বাতিল করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৭০-১৮০ জনকে আসামি করে মামলা করে। মামলায় ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া সর্বশেষ গ্রেপ্তার নূর নবীর (৩৭) রিমান্ড শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার।
ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহামুদুর রহমান জানান, রিমান্ড শেষে চার তরুণকে আজ বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অধ্যক্ষের গলায় যে তিনজন জুতার মালা পরিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁরা হলেন শাওন খান ও রহমাতুল্লাহ বিশ্বাস। তাঁরা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মালা পরানোর কথা স্বীকার করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে শাওন খান ও রহমাতুল্লাহ বিশ্বাস পুলিশকে জানিয়েছেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা মালা তৈরি করেছিলেন। পুলিশের তৎপরতার কারণে ছাত্ররা তা পরাতে না পেরে মাঠের ভেতর ফেলে দেয়। পরে শাওন তা কুড়িয়ে নিয়ে অন্য আসামিদের সহায়তায় অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর গলায় পরিয়ে দেন।
আজ বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষের বাড়ি বড়কুলা গ্রামে গিয়ে জানা যায়, ভয় ও আতঙ্কে গত ২০ দিনেও বাড়িতে আসেননি অধ্যক্ষ। ওই গ্রামের পরেই মির্জাপুর গ্রাম। সেখানে কলেজটি অবস্থিত। অধ্যক্ষের বাড়িতে আছেন তাঁর মা, বাবা, স্ত্রী ও তিন মেয়ে। তিন মেয়ে স্কুল ও কলেজে পড়ে। ঘটনার পর তাঁরা স্কুল-কলেজে যায়নি। বাড়ি থেকেও বের হয়নি। বাড়ির সামনে অবস্থান করছে পুলিশ সদস্যরা।
অধ্যক্ষ স্বপন কুমারের বাবা সুমন্ত বিশ্বাস ও মা বনলতা বিশ্বাস জানান, ঘটনার পর তাঁদের ছেলে স্বপন কুমার বিশ্বাস আর বাড়িতে আসেননি। কথাও হয়নি তাঁদের সঙ্গে। তাঁদের ছেলে আত্মগোপনে আছেন। কবে আসবেন তা–ও জানা নেই তাঁদের।
অধ্যক্ষের চাচাতো ভাই স্কুলশিক্ষক সৌমিত্র কুমার বিশ্বাস বলছিলেন, ‘মূল বিষয় অধ্যক্ষের চেয়ার দখল। দাদা (স্বপন কুমার) কলেজের শুরু থেকে আছেন। দর্শন বিভাগের শিক্ষক। অধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকায় ১ নম্বর জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে তাঁকে বাধ্য হয়ে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে সব সময় তিনি অস্বস্তিতে থাকতেন। দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চাইতেন। কিন্তু বিধি অনুযায়ী বাধ্য হয়ে দায়িত্বে থাকতে হয়েছে।’
সৌমিত্র কুমার আরও বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে কোনো সমস্যা হয়নি। পুলিশ সার্বক্ষণিক পাহারায় আছে। তবে আমাদের মধ্যে ভবিষ্যতের অজানা শঙ্কা কাজ করছে।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
