নিজস্ব প্রতিবেদক।।
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষকরা হচ্ছেন মেরুদণ্ড তৈরির কারিগর। তাই সবাই শিক্ষকদের পথপ্রদর্শক হিসেবে সম্মান করেন। শিক্ষকরা হচ্ছেন জাতির বিবেক, সম্মানিত ও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। পারিবারিকভাবে মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার অভাব, সুশিক্ষার অভাব, জীবন সম্পর্কে সচেতনতার অভাবের ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। তাই এখনই সময় সন্তানদের মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়ে তাদের বিবেকসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।
দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৭৫৩তম পর্বে এসব কথা বলেন আলোচকরা। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, বেলজিয়াম বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুক মির্জা, সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি, ইতালি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি কে এম লোকমান হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার বিশেষ প্রতিনিধি উৎপল দাস।
অধ্যাপক ড. ফারুক মির্জা বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষকরা হচ্ছেন মেরুদণ্ড তৈরির কারিগর। শিক্ষকরা হচ্ছেন জাতির বিবেক, সম্মানিত ও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। উন্নত জাতিসমূহের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সকল জাতিই শিক্ষকতা পেশাকে সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত এবং সমাজের সবচেয়ে মেধাবী ও বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষগুলোকে শিক্ষকতা পেশাতে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। আমাদের দেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নেহ-ভালবাসার বন্ধন অটুট। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যা ঘটেছে তা দেখলে মনে হয় ঠিক তার উল্টো হচ্ছে এখন। ছড়ি ঘুরাচ্ছে শিক্ষকদের ওপর। শিক্ষককে পিটিয়ে মারছে তারই ছাত্র। আবার এক শিক্ষক আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে লেলিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে সমাজে। কখনো শিক্ষকগণ অভিভাবকদের হাতে, কখনোবা কমিটির সদস্যদের হাতে। কখনোবা অপমানিত, লাঞ্ছিত এমনকি শারীরিকভাবেও হামলার শিকার হচ্ছেন নিজ শিক্ষার্থীদের হাতেও। শিক্ষককে পানিতে চুবানো, কান ধরে উঠবস করানো, গলায় জুতার মালা পরানো এবং সবশেষ স্টাম্প দিয়ে মেরে হত্যায় গিয়ে ঠেকেছে শিক্ষকদের মর্যাদা। শিক্ষক নির্যাতনের এমন সব অমানবিক চিত্র প্রায়ই আমরা দেখতে পাচ্ছি। শিক্ষকের লাঞ্ছনা দূর করতে, ছাত্র, প্রশাসন, পুলিশ ও ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিপীড়ন বন্ধ করতে, শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করতে, শিক্ষকদের পেশার সম্মান ফিরিয়ে আনতে, অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা দূর করতে এখনই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
কে এম লোকমান হোসেন বলেন, শিক্ষক হলেন জাতি গড়ার কারিগর। তাই সবাই শিক্ষকদের পথপ্রদর্শক হিসেবে সম্মান করেন। মা-বাবা আমাদের প্রথম ও পরম গুরু। জীবনের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার অন্যতম শিক্ষক। জাতি গঠনে শিক্ষার বিকল্প নেই। এ জন্যই বলা হয় শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষক হলো মেরুদন্ড সচল-সুস্থ, ঋজু রাখার তথা মানুষ গড়ার কারিগর। মানুষের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও নৈতিক বিকাশ অব্যাহত রাখতে সমাজে শিক্ষকের গুরুত্ব অপরিসীম। সত্যিকার মানুষরূপে গড়ে তোলেন একজন শিক্ষক। সেই শিক্ষকদের কি আমরা সঠিক মূল্যায়ন ও মর্যাদা করতে পারছি? না, পারছি না। একের পর এক শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক লাঞ্ছনা ও হত্যায় সবার মধ্যে বেড়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সর্বশেষ সাভারের হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যা এবং নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালায় পরানোর ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন-বিগত কয়েক বছর ধরে শিক্ষক লাঞ্ছনার বিভিন্ন ঘটনা প্রমাণ করে যে-শিক্ষকদের সম্মানের জায়গাটুকু নড়বড়ে। এছাড়া এসব ঘটনাকে হিন্দু-মুসলিম,সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু কিংবা সাম্প্রদায়িকতা মানদণ্ডে বিচার করা হচ্ছে। এসব ঘটনা যেন প্রতিনিয়ত বেড়েছে চলেছে। এসব ঘটনার পেছনে পারিবারিক ও মানবিক শিক্ষার অভাব বলে মনে করি আমি। পারিবারিকভাবে মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার অভাব, সুশিক্ষার অভাব, জীবন সম্পর্কে সচেতনতার অভাবের ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। তাই এখনই সময় সন্তানদের মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়ে তাদের বিবেকসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
