এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

দেশে অবহ্যাত শিক্ষক নির্যাতন, নিপীড়ন ও হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ পালন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সম্মুখে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বক্তব্য দেন এবং উদীচী শিল্পীগোষ্ঠির কেন্দ্রীয় সঙ্গীত বিভাগ প্রতিবাদী গান পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্তি করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, যে শিক্ষার্থী শিক্ষককে খুন করে পরিকল্পিতভাবে, সে একজন খুনী। বারবার ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং এই কাজে রাষ্ট্রকে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সমাবেশে সম্প্রতি নির্যাতনের শিকার বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল বলেন, ‘আজকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক স্বপন কুমারের গলায় নয়, বরং আমার ও আপনাদের গলায় জুতার মালা দিয়েছে। আজকে হিন্দু শিক্ষকদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। আমাদের যদি মেরে ফেলেন তাতে লাভটা কী! আমি বিজ্ঞান চর্চা করি, কোনো ধর্মের প্রতি কটূক্তি করি না। আমাদের যদি মেরে ফেলেন তবে আপনাদের সন্তানরা বিজ্ঞান শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। আজকে আমিও শিক্ষার্থীদের কিছু বলতে পারি না। না জানি কখন সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলে আমার ওপর আবার আক্রমণ হয়।’

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ অব্যাহত শিক্ষক নির্যাতনকে রাজনৈতিক ঘটনা উল্লেখ্য করে বলেন, ‘আমাদের সমাজ ও দেশ আমাদের হাতে নেই। তা না হলে রতন সিদ্দিকীর সাথে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। হামলাকারীরা তার স্ত্রীকে অভিযোগ করে বলে—তুমি টিপ পরেছো কেন! মৌলবাদীরা এতোই বেড়েছে যে আপনার সকল আচার-আচরণ, পোশাক-আশাক, সংস্কৃতি, স্কুল-কলেজ, শিক্ষানীতি সবগুলোতে তারা হস্তক্ষেপ করতে শুরু করেছে।

সমাবেশে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, বাংলাদেশকে মেধাশূন্য, হিন্দুশূন্য ও পাকিস্তান বানানোর জন্য ধারাবাহিকভাবে শিক্ষক ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। আমাদের বহুদিনের দাবি ছিল সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধ করা। গতকাল অধ্যাপক রতন সিদ্দিকীর বাড়িতে নাস্তিক, মুরতাদ আখ্যা দিয়ে কারা হামলা চালিয়েছে তা আমরা সবাই দেখেছি। কিন্তু পুলিশ বললো আমরা সব মিটমাট করে দিয়েছি। এগুলো মিটমাটের বিষয় নয়।’

তিনি বলেন, ‘সরকারকে আমরা বলবো–হেফাজত তোষণ বন্ধ করুন। এদের মতো কালসাপকে যারা তোষণ করেছে সবাই বিপদে পড়েছে। বাংলাদেশকে মোল্লা ওমরের আফগানিস্তান ও পাকিস্তান বানানোর জন্য এসব করা হচ্ছে।’

উদীচীর সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার বলেন, ‘আমাদের কাজ সংস্কৃতি চর্চা করা, আন্দোলন সংগ্রাম করা নয়। কিন্তু আমরা নিজেদের জায়গা থেকে এসব অনাচার দেখে চুপ থাকতে পারি না। ঘরে বসে বসে প্রতিবাদ সম্ভব নয়। আমাদের অস্ত্র গান-কবিতা, আমরা তা দিয়েই অপশক্তির মোকাবেলা করবো।’

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে ডক্টরস এন্ড হেল্থ–এর সভাপতি ডা. এম এইচ ফারুকী, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, প্রজন্ম একাত্তরের সাধারণ সম্পাদক আসিফ মুনির, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার, কবি কামরুজ্জামান, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, কেন্দ্রীয় খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক দোলন সাহা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সদস্য খালেদা ইয়াসমিন কনা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.