নিজস্ব প্রতিবেদক।।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মমরেজ গলগন্ডা গ্রামের কৃষক এস এম আব্দুল কদ্দুছের ছেলে এস এম মার্জুল হক মুন্না। দুই বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ।
পরিবারের অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে কষ্টে ইংরেজিতে ২০১৭ সালে অনার্স ও ২০১৮ সালে মাস্টার্স শেষ করেন তিনি। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরির আবেদন ও পরীক্ষাও দিয়েছেন। এছাড়া গত ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছেন। কোথাও কোন চাকরি না হওয়ায় টিউশনি করে নিজের খরচ ও পরিবারকে সহযোগিতা করেন। সেই মুন্না মাত্র ৫৬ টাকার বিনিময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
মার্জুল হক মুন্না বলেন, খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। বিনামূল্যে সরকারি চাকরি পাবো তা কখনও কল্পনাও করিনি। তবে ইচ্ছে শক্তি ছিলো সরকারি চাকরি পাবো। সেই ইচ্ছে শক্তি থেকেই সরকারি চাকরি পাওয়ায় আমি খুব আনন্দিত। মাত্র ৫৬ টাকায় চাকরি হবে এটা ধারণার বাইরে।
শুধু মুন্না নয়, মাত্র ৫৬ টাকায় (৫০ টাকা ড্রাফট ও ৬ টাকা টেলিটক সিমের) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন ৪৪ জন। শতভাগ স্বচ্ছতার মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৯টি পদে ৪৫ জন নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার জন্য আবেদন করেন ৬ হাজার ৭০১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে অফিস সহায়ক পদে (ডিসি ও ইউএনও অফিস) পাঁচ জনের বিপরীতে চার হাজার ৫১৭ প্রার্থী, নিরাপত্তাকর্মী (ডিসি অফিস ও ইউএনও অফিস) ২০ জনের বিপরীতে এক হাজার ৫৮১ প্রার্থী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী (ডিসি ও ইউএনও অফিস) ৯ জনের বিপরীতে ২৫২ প্রার্থী, বেয়ারার ৪ জনের বিপরীতে ১৭৯ প্রার্থী, নিরাপত্তাকর্মী (সার্কিট হাউজ) ৩ জনের বিপরীতে ১১৫ প্রার্থী, ভাবুর্চি পদে এক জনের বিপরীতে ৬ জন প্রার্থী, সহকারী ভাবুর্চি পদে এক জনের ৯ জন প্রার্থী, মালি পদে এক জনের বিপরীতে ২০ জন প্রার্থী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সার্কিট হাউজ) পদে এক জনের বিপরীতে ২৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন।
গত ৩ জুন ৮টি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৪ জুন মৌখিক পরীক্ষা শেষে রাতেই ফল ঘোষণা করা হয়। ১২ জুন তারা সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যোগদান করেন। নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৪ জনের ৪০ জনই অনার্স/মাস্টার্স পাস। এছাড়াও বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নকর্মী এইচএসসি পাস।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে চাকরি পাওয়া মির্জাপুরের পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক ঠান্ডু মিয়ার ছেলে অনার্স ফাইনাল বর্ষের ছাত্র মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে শুনেছি ডিসি অফিসে চাকরি পেতে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লাগে। এই ভয়ে প্রথমে আবেদন করতে চাইনি। পরে পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে আবেদন করেছি। চাকরি পেতে মাত্র ৫৬ টাকা লেগেছে। বিনামূল্যে চাকরি হওয়ায় আমি খুব খুশি।
নিরাপত্তাকর্মী পদে চাকরি পাওয়া সদর উপজেলার কুইজবাড়ী গ্রামের আ. রহিম মিয়া বলেন, এতদিন জানতাম ঘুষ ছাড়া চাকরি হয় না। আজ প্রমাণ হলো ঘুষ ছাড়া নিজের মেধা ও যোগ্যতায় সরকারি চাকরি পাওয়া যায়। বিনামূল্যে চাকরি পাওয়ায় জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি জানান, সরকারি বিধি অনুসরণ করে সততার সাথে তিনি ও তার সহকর্মীরা নিয়োগ দিতে পেরে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
