এইমাত্র পাওয়া

রেমিট্যান্স প্রবাহ ঠিক রাখতে ৮১ মিশনে জরুরি বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রিজার্ভে আচমকা ভাটার টান ঠেকাতে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের বড় অবলম্বন রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়াতে দুনিয়াজুড়ে থাকা বাংলাদেশের ৮১টি মিশনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ ঠিক রাখতে জরুরিভিত্তিতে কিছু ব্যবস্থা নিতে মিশন প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং মিশনের স্বপ্রণোদিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি আগামী ১৫ই জুনের মধ্যে সরকারকে জানানোর টাইম ফ্রেমও বেঁধে দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, সরকার রেমিট্যান্স প্রবাহ ঠিক রাখার লক্ষ্যে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুসংহত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। এক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন পেশায় কর্মরত অনাবাসী বাংলাদেশিদের বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৈধ পথে দেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে মিশনসমূহ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মিশনসমূহের অধিক্ষেত্রভুক্ত অঞ্চলসমূহে বাংলাদেশের তফসিলি ব্যাংকসমূহের অফিসগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করে প্রবাসীদের সঙ্গে উত্তম পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এছাড়া, দূতাবাসসমূহের পক্ষ থেকে উক্ত ব্যাংক অফিসগুলোতে দৈনিক রেমিট্যান্স প্রেরণ সংক্রান্ত উপাত্ত সংগ্রহ করা এবং বাংলাদেশি গ্রাহকের তালিকা সংগ্রহ করে ফোনে প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। তাছাড়া, মিশনে সংরক্ষিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের তালিকা ব্যবহার করেও এ বিষয়ে অনুরোধ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগণ এবং মিশনের ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, ওয়েবসাইট ইত্যাদিতেও রাষ্ট্রদূত বা মিশন প্রধানের পক্ষ হতে অনুরোধ সংবলিত ভিডিও বার্তা প্রচার করা যেতে পারে। চিঠিতে বলা হয়, বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহ বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে উপরে বর্ণিত নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন ছাড়াও মিশনের সুবিধামতো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

চিঠিতে আশা করা যায় যে, এতে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুসংহত রাখা সম্ভব হবে। পররাষ্ট্র সচিবের চিঠিতে এ বিষয়ে মিশন প্রধানদের আন্তরিক সহযোগিতাও কামনা করা হয়।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে বেড়ে চলেছে আমদানি ব্যয়। এর বিপরীতে বাড়ছে না রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়। ফলে মাত্রাতিরিক্ত আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে রিজার্ভে টান পড়েছে। রিপোর্ট বলছে, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদে ২.২৪ বিলিয়ন (২২৪ কোটি) ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর দেশের রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন (৪ হাজার ২০০ কোটি) ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এর আগে কখনোই আকুর এত বেশি বিল শোধ করেনি বাংলাদেশ। ফলে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ৪১.৯০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বরে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১.২৬ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমানের আমদানির খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে ৫ মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে। করোনাকালে আমদানিতে ধীরগতি আর রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত বছরের ২৪শে আগস্ট রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর থেকেই আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার আগে মাসে আমদানি খাতে গড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হতো। করোনার মধ্যে তা কমে গড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। কিন্তু চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আমদানি ব্যয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত: আমদানি বাড়ার কারণেই রিজার্ভ কমছে। এ ছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের নিম্নগতি রিজার্ভ কমার অন্যতম কারণ বলেও মনে করছেন তারা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.