এইমাত্র পাওয়া

আজ বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস

নিউজ ডেস্ক।।

আমাদের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক বা ব্রেইন। তাই ব্রেইনের কোনো সমস্যা হলেই আমরা খুব বেশি চিন্তায় পড়ে যাই। ব্রেইন তখন নিজেই তার সমস্যাকে গুরুত্ব সহকারে দেখা শুরু করে।

মাথা ব্যথা একটি পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেক সময় আমরা এটিকে গুরুত্ব দিই না। কিছু মাথাব্যথা জটিল রোগের উপসর্গ। গুরুত্ব না দিলে এটি মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।

মাথা ব্যথার সঙ্গে যদি থাকে বমি, ভুলে যাওয়া ও আচমকা ব্ল্যাক আউটের মতো উপসর্গ, তবে সতর্ক হতে হবে! অনেক সময় এসব মস্তিষ্কের টিউমারের উপসর্গ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, মোট দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ প্রতি বছর ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হন।

এছাড়া ব্রেইন টিউমারের আরও কিছু লক্ষণ দেখা যায়। চোখে ঝাপসা দেখা। মুখের স্বাদ চলে যাওয়া। কাঁপুনি দেয়া। হাতের বা শরীরের একদিক অবশ হয়ে যাওয়া। ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারা। চলতে গিয়ে পড়ে যাওয়া। বুঝতে না পারা। ব্যক্তিত্বে বদল আসা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

ব্রেইন টিউমার সম্পর্কে সতর্কতা সৃষ্টি ও সচেতনতা বাড়াতেই প্রতি বছর ৮ জুন পালিত হয় বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস। সে হিসেবে আজ বুধবার (৮ জুন) বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হচ্ছে। ১৯৯৮ সালে গঠিত জার্মান ব্রেইন টিউমার অ্যাসোসিয়েশন নামের দাতব্য সংস্থার উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

ব্রেইন টিউমার জীবননাশের কারণ হতে পারে বিধায় এ রোগের নাম শুনলেই সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই টিউমার শুধু মস্তিষ্কেও হতে পারে আবার শরীরের অন্য অংশে তৈরি হয়ে মস্তিষ্কে ছড়াতে পারে।

সাধারণত কিছু অস্বাভাবিক কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যদি মস্তিষ্কে চাকার সৃষ্টি করে, তাকে ব্রেইন টিউমার বলে। দুই ধরনের টিউমার আছে। একটি ধীরে ধীরে বাড়ে এবং মস্তিষ্কের অন্যত্র ছড়ায় না। এগুলোকে বেনাইন বা নির্দোষ টিউমার বলে। তবে বড় আকৃতির টিউমারের চাপে মস্তিষ্কের সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

আরেক ধরনের টিউমার, যা ক্যানসার হিসেবে গণ্য হয়, দ্রুতই মস্তিষ্কের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা দেয়া হলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ টিউমার নিরাময় হয়।

ব্রেইন টিউমারের চিকিৎসানির্ভর করে টিউমারের আকার, ধরন, রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর। সাধারণত অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, কখনো ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়।

মস্তিস্ক বা ব্রেইন শরীরের বিশেষ একটা জায়গা। এখানে অস্ত্রোপচার বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। বাংলাদেশে এক সময় মস্তিস্কের অস্ত্রোপচার হতো না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাও এগিয়েছে। এখন দেশেই হচ্ছে মস্তিস্কের অস্ত্রোপচার।

মস্তিস্কের টিউমারে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কোনো কর্মসূচি পালন করা হয় না। যার জন্যই এই দিবসের উদ্ভব।

সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও নিয়মিত শরীর চর্চা করে ব্রেইন টিউমার ঠেকানো যায়। তাছাড়া যে কোনো সমস্যায় অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

সূত্র: মেডিভয়েস


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.