নিউজ ডেস্ক।।
পুরো রমজান মাস কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছিল সুনসান নীরবতা। এবার ঈদের টানা ছুটিতে সেই নীরবতা ভাঙার তোড়জোর শুরু হয়েছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে চলছে
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
শুক্রবার থেকে টানা ছয় দিন বন্ধ পড়ছে। এর মধ্যে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২ অথবা ৩ মে ঈদ। এর আগের দিন মে দিবসের বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী বুধবার পর্যন্ত সরকারি ছুটি রয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার এক দিন খোলার পর আবার দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি। এ হিসেবে এবারের ঈদেই টানা ছুটি পড়ছে। এই ছুটির দিনগুলোকেই পর্যটন ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শেষ পর্যটক সমাগম মনে করছেন।
ইতোমধ্যে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত কক্সবাজারের অবকাশ কেন্দ্রগুলো। অধিকাংশ হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউস আগাম বুকিং হয়ে গেছে। অন্যান্য বছরের মতোই এবারের ঈদে দর্শনার্থীদের আগমন বেশি হবে বলে আশা ব্যবসায়ীদের। এছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় ট্যুরিস্ট পুলিশ।
পর্যটক সংশ্লিষ্টরা পর্যটকদের বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। পর্যটন স্পট, হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউসগুলো বুকিং দিতে শুরু করেছেন দর্শনার্থীরা।
মহামারির তাণ্ডবে গত দু’বছর যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নেয়ার আশা ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকাররা নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কয় দিনের কোলাহলমুক্ত সৈকতে ঢেউয়ের গর্জন ও বালিয়াড়ির বুকে ডালপালা ছড়ানো সাগরলতাও যেন পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
একসাথে পাহাড়, সমুদ্র, নদী, ছড়া, ঝিরি-ঝর্ণার মেলবন্ধনে প্রকৃতির অপরূপ সব সৌন্দর্য দেখার সুযোগ শুধু কক্সবাজারেই রয়েছে। তাই বিশেষ দিন ও সরকারি ছুটিতে মানুষ বেড়ানোর জন্য এখানেই ছুটে আসে।
মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, ঈদ উপলক্ষে মেরিন ড্রাইভের হোটেলগুলোর প্রায় আশি ভাগ কক্ষই আগাম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাকী কক্ষগুলোও বুকিং হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কক্সবাজারে বেড়াতে আসার জন্য ঈদের পরদিন থেকে টানা তিনদিন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ পর্যটক হোটেলে আগাম কক্ষ বুকিং দিয়েছেন বলে জানান কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশনের (টোয়াক বাংলাদেশ) প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি এস এম কিবরিয়া খান।
এছাড়া বুকিং ছাড়াই আরো কয়েক লাখ পর্যটক এবারের ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসবেন বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, অধিকাংশ পর্যটকই ২থেকে ৩ দিনের জন্য কক্সবাজারে আসেন। তবে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার সুযোগ থাকলে আরো কয়েক দিন তারা কক্সবাজারে কাটাতেন।
শুক্রবার বিকেলে হোটেল-মোটেল জোনের কলাতলী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হোটেল, গেস্ট হাউস ও রিসোর্টগুলোতে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। রেস্তোরাঁগুলো সাজানো হচ্ছে নতুন ভাবে।
সৈকতের বালিয়াড়ির কিটকট (চেয়ার-ছাতা) ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান জানান, মাস দেড়েক ধরে কর্মচারীর বেতনও জোগাড় করা যায়নি। এবার ঈদের ছুটিতে ব্যবসা ভালো হবে বলে আশা করছি।
লাবণী পয়েন্টের জেলা পরিষদের মার্কেটের শামুক-ঝিনুক ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ বিকেলে দোকান পরিষ্কার করছেন। তার মতো এই মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকাররা নিজেদের প্রতিষ্ঠানে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
কক্সবাজার শহরের পাঁচ তারকা মানের হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ইতোমধ্যে এসব হোটেলে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। কিছু কিছু হোটেল পর্যটক টানতে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দিচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল, গেস্ট হাউস ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, শহরে ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও রিসোর্টে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারের মতো পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। ঈদের আগে বাকি রুমগুলোও বুক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবুল কাসেম সিকদার আরো জানান, পর্যটকেরা অনলাইনে বুকিং দিয়ে এলেই সবচেয়ে ভালো। তখন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশীদ জানান, ‘এবারের ঈদে লম্বা ছুটি পড়ছে, তাই পর্যটকসমাগমও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে পর্যটকসংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সাথে সমন্বয় করছি, যাতে পর্যটকেরা ভালো সেবা পান। হোটেলে-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় যেন অতিরিক্ত টাকা আদায় করা না হয়, অন্যান্য ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ এবং পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সৈকতে এবং আশপাশের বিনোদন কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবেন।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের চাপ বেড়ে যায়, এ কথা মাথায় রেখেই শহর ও শহরতলীর পর্যটন স্পটগুলোতে টহল জোরদার করা হবে। এছাড়া শহর ও সমুদ্র সৈকতে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা কায়েম থাকবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
