এইমাত্র পাওয়া

শেয়ারবাজারে অব্যাহত পতনে নিঃস্ব হচ্ছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা

অনলাইন ডেস্ক।।

পুঁজিবাজারে পতন অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেও দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের বড় পতন হয়েছে। পতন ঠেকাতে পারেনি সিএমএসএফ ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগও। বরং এই ফান্ড বিনিয়োগের খবর শুনে বেশি দামে শেয়ার কিনে নিঃস্ব হচ্ছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

একাধিক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সাথে আলাপকালে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে দ্রব্যমূল্যের চাপ। অপরদিকে, শেয়ারের অব্যাহত দরপতন। তারা এখন চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন। শেয়ারের দর পড়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এখন সর্বশান্ত হয়ে গেছেন। তারা বলেন, সরকারের উচিত পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমূহ যেন ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে কাজ করে। নতুবা এই বাজারের প্রাণ ফিরবে না।

ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম চট্টগ্রামের যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, সিএমএসএফ ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারিদের বরং ক্ষতি হয়েছে। এই খবর শুনে অনেকেই বেশি দামে শেয়ার কিনেছে এবং তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ বাজারের পতন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, এসব ভর্তুকি কিংবা সরকারি বিনিয়োগ করে পুঁজিবাজারের উত্থান হবে না। পুঁজিবাজারের ভাল চাইলে এ সংক্রান্ত সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহকে ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে হবে। তারা তো জানে সমস্যা কোথায়। তারা একমত হয়ে একসাথে কাজ করলে এই বাজারের শৃঙ্খলা আসবে।

টানা দরপতন আর লেনদেন খরায় নিস্তেজ হয়ে পড়া শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের (সিএমএসএফ) ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তাতেও মার্কেটের কোন পরিবর্তন হয়নি। শেয়ারবাজারে টানা দরপতন দেখা দিলে গত ২৮ নভেম্বর সিএমএসএফ থেকে ১০০ কোটি টাকা টিডিআর রূপে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বিনিয়োগে সম্মতি দেয় পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতি পাওয়ার ১২ দিনের মধ্যে সিএমএসএফ’র একশ কোটি টাকা সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করা হয়।

ডিএসই বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস অর্থাৎ গত ৭ এপ্রিল ডিএসই’র বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে তা ৩৫১৫ কোটি টাকা কমে ৫ লাখ ২৯ হাজার ২৪ কোটি ৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

তার আগের সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসই পতনের মধ্য দিয়ে পার করে দেশের শেয়ারবাজার। এতে ওই সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে। দুই সপ্তাহের ডিএসএই’র বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার কোটি টাকা। বাজার মূলধনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে কমে যায় সবকটি মূল্যসূচক। একইসঙ্গে কমে লেনদেনের পরিমাণও। ওই সপ্তাহে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বাজার মূলধন কমে ৪৮৫০ কোটি টাকা।

একই সময়ের ব্যবধানে ডিএসইএক্স এর সূচক কমেছে ৫৬.২৫৮৯৪ পয়েন্ট। গত ৭ এপ্রিল গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইএক্স ছিল ৬৬৪১.২৩৩৭ পয়েন্ট। সর্বশেষ কার্যদিবস অর্থাৎ গত ১৩ এপ্রিল তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫৮৪.৯৭৪৭৬ পয়েন্টে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে সিএএসপিআই ১৯৫০১.৭৫ পয়েন্ট থেকে ১৩৪.৮৪ পয়েন্ট কমে ১৯৩৬৬.৯১ পয়েন্টে ঠেকেছে। এই সময়ে বাজার মূলধন ৪ লাখ ৬৩ হাজার ২৫৯ কোটি ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ৫১৭ কোটি ৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা কমে ৪ লাখ ৬০ হাজার ৭৪১ কোটি ৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা হয়েছে। অর্থাৎ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসই’র বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.