এইমাত্র পাওয়া

অসত্ কাউকে ছাড়ব না-প্রধানমন্ত্রী

সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে সরকারের জিরো টলারেন্সের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অসত্ কাউকে ছাড়ব না।’ তিনি বলেন, দুর্নীতি না হলে দেশের চেহারা পালটে যেত। স্থানীয় সময় শনিবার বিকালে নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে অবস্থিত ম্যারিয়ট মার্কি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রবাসী নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ২৮ সেপ্টেম্বর ছিল শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন। এ কারণে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ প্রবাসীরা।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ব্যানারে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হলেও দলের কোন্দলের কারণে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে এবারই প্রথম দলের কোনো নেতাকর্মীকে মঞ্চে জায়গা দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক দলের ব্যানারে হলেও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। মঞ্চে একমাত্র ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ফাঁকফোকর কোথায় এবং কারা উন্নয়ন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি একটা কথা স্পষ্ট বলতে চাই, এই অসত্ পথ ধরে কেউ উপার্জন করলে, অনিয়ম, উচ্ছৃঙ্খলতা বা অসত্ কাজে যদি ধরা পড়ে, তবে সে যে-ই হোক না কেন, আমার দলের হলেও ছাড় হবে না। এর বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যাপকভাবে উন্নয়ন প্রকল্প নিচ্ছি। যে পরিমাণ উন্নয়ন প্রকল্প আমরা নিচ্ছি, তার প্রতিটি টাকা যদি সঠিকভাবে ব্যয় হতো, ব্যবহূত হতো, আজকে বাংলাদেশ আরো অনেক বেশি উন্নত হতে পারত। এখন আমাকে খুঁজে বের করতে হবে এখানে কোথায় লুপহোল, কোথায় ঘাটতিটা, কারা কোথায় কীভাবে এই জায়গাটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, যারা সত্ভাবে জীবন যাপন করতে চায়, তাদের জন্য বা তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য সত্ভাবে জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে যায়, যখন অসত্ উপায়ে উপার্জিত পয়সা সমাজকে বিকলাঙ্গ করে দেয়। কারণ একজনকে সত্ভাবে চলতে গেলে তাকে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলতে হয়। আর অসত্ উপায়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে এই ব্র্যান্ড, ঐ ব্র্যান্ড, এটা-সেটা হইচই খুব দেখাতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, ফলাফলটা এই দাঁড়ায়, একজন অসত্ মানুষের দৌরাত্ম্যে যারা সত্ভাবে জীবন যাপন করতে চায়, তাদের জীবনযাত্রাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ ছেলেমেয়েরা ছোটো শিশু, তারা তো আর এতটা বোঝে না। ভাবে যে ওরা এইভাবে পারে, তোমাদের নেই কেন? এটা স্বাভাবিক, তাদের মনে এই প্রশ্নটা জাগবে। অত ছোটো ছোটো বাচ্চারা, তারা সত্-অসতের কী বুঝবে? তারা ভাবে, আমার বন্ধুদের এত আছে, আমাদের নেই কেন? স্বাভাবিকভাবে মানুষকে অসত্ উপায়ের পথে ঠেলে দেবে।

সমাজের এই যে বৈষম্য, এটা দূর করার জন্য সরকার ইতিমধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা জিনিস আমি দেখতে বলে দিয়েছি, সেটা হলো কার আয়-উপার্জন কত, কীভাবে জীবন যাপন করে, সেগুলো আমাদের বের করতে হবে। তাহলে আমরা সমাজ থেকে এই ব্যাধিটা, একটা অসম প্রতিযোগিতার হাত থেকে আমাদের সমাজকে রক্ষা করতে পারব, আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারব।’

দুর্নীতির পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, সেটাও অব্যাহত থাকবে। এই মাদক একটা পরিবার ধ্বংস করে, একটা দেশ ধ্বংস করে। এর সঙ্গে কারা আছে, সেটাও আমরা খুঁজে বের করব। বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক দূর করে বাংলাদেশের মানুষকে আমরা উন্নত জীবন দিতে চাই।’

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস যে কেবল বাংলাদেশের সমস্যা না, গোটা বিশ্বের জন্যই যে এটি একটি হুমকি, সে কথাও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এখন দেশের উন্নতির জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দরকার। তিনি বলেন, জনগণের শক্তিই বড়ো এবং আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতেই বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নতি হয় এবং জনগণ উন্নত জীবন লাভ করে বলেই আওয়ামী লীগের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আছে।

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তাদের দেশে আরো বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.