নিজস্ব প্রতিবেদক।।
অন্যায্য ফি বাতিল ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করে শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুরাদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ডেইরি গেটে যায়। এরপর প্রায় আধা ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় মহাসড়কে কাঠ পুড়িয়ে আগুন জ্বালাতে দেখা যায়।
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সামী আল জাহিদ প্রীতম বলেন, ‘কুয়েট শিক্ষার্থী অন্তু রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাপিয়ে দেওয়া ফি পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। এর পুরোটা দায় রাষ্ট্রের। এ রাষ্ট্র ব্যবস্থা অন্তু রায়ের মতো আরও অনেক শিক্ষার্থীকে আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করে। প্রতিনিয়ত শিক্ষাক্ষেত্রে ফি বাড়ানো প্রমাণ করে যে এ শিক্ষা শুধুমাত্র একটি উচ্চবিত্ত শ্রেণি অধিকার। সবার জন্য শিক্ষা যে একটি মৌলিক অধিকার সেখান থেকে আমরা সরে আসছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবছর তাদের ফর্মের দাম বৃদ্ধি করেছে ও অপরাপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের আনুষঙ্গিক ফি বাড়াচ্ছে। অতিরিক্ত ও অন্যায্য ফি দায়ের করা শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যা আমাদের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমরা আসা করবো রাষ্ট্র এসব ফি কমানোর আশু পদক্ষেপ নিবে।’
জাবি সংসদ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাকিবুল হক রনি বলেন, ‘সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিনের পর দিন তাদের ফি বাড়িয়েই যাচ্ছে। একজন কৃষক-শ্রমিক, ভ্যান-রিকশাচালকের ছেলে-মেয়ে মেধা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলেও অতিরিক্ত ফির কারণে পড়তে পারছে না। এ অন্যায্য ফি পরিশোধ করতে না পেরে শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে ক্ষোভে রাগে আত্মহত্যা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মঞ্জুরি কমিশন কয়েকদিন পর পর সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নামে বেনামে ফি বাড়ানোর নাম করে অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানের পরামর্শ দেয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে কয়েকদিন পর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। গত ১৩ বছরে এ দুঃশাসন, ফি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অরাজকতা, মারধর ও কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগ, পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ আমরা সংখ্যায় কম হতে পারি। কিন্তু একদিন এসব ন্যায্য দাবিতে লাখো মানুষ মাঠে নামবে। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ইউজিসি, মন্ত্রণালয় সবাই নতজানু হবে এবং তারা ফি বাড়ানোর চক্রান্ত থেকে বেরিয়ে আসবে।’
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তু রায় আর্থিক অনটন ও বিশ্ববিদ্যালয় হল ফির চাপে আত্মহত্যা করার ঘটনায় রাষ্ট্রকে দায়ী করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যায্য ফি বাড়ানো বন্ধের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
