এইমাত্র পাওয়া

সবাই বলে আত্মহত্যা, আমি দেখি খুন

নাফিজা নাহিন মুনিয়া।।

অন্তুকে একদিন বললাম, দোস্ত দেখ আমাদের এখন টাকা নাই, ট্যুর দিতে পারি না। যা মন চায় খাইতে পারি না, যা খুশি করতে পারি না। কিন্তু ভাব! একটা টাইমে চাকরি করে তো আমাদের অনেক টাকা হবে। তখন ট্যুর দেয়া যাবে, ইচ্ছামত ফাস্টফুড খাওয়া যাবে। আর যা মন চায় করাও যাবে। তখন কত মজা হবে তাই না?

অন্তু বললো ‘মজা হবে কিনা এটা নিয়ে সন্দেহ আছে দোস্ত। আমার তো তখন টাকার সাথে সাথে অনেক দায়িত্বও থাকবে। বাবা-মা আমার উপর ডিপেন্ডট থাকবে। তাদের দেখা লাগবে, ঘরটা ভেঙে পড়তেছে নতুন একটা ঘর দেয়া লাগবে। ছোট বোনটার বিয়ে দেয়া লাগবে। বউ-বাচ্চা হইলে তো আরো দায়িত্ব! অনেক প্যারা আছে রে ভাই!’

অন্তু প্যারাগুলো না নিয়েই চলে গেল। অন্তু নেই। অন্তু লোকাল ছিল। বাড়ি ডুমুরিয়া, দৌলতপুর মেসে থাকতো। নন পলিটিকাল, স্কুল কলেজ সব খুলনায় আর বাড়ির ঠিকানা খুলনার মধ্যেই পড়ার কারণে ছেলেটা প্রথম ২ বছর হল পায়নি, মেসে থেকেছে।

আমরা যারা লোকাল তারা মাসে একবারও হলমুখী না হলেও হলের ডিউজ দিতে কিন্তু বাধ্য। আর ডিউজটা পরিশোধ করতে হয় কোর্স রেজিস্ট্রেশনের সময়। কোর্স রেজিস্ট্রেশনের প্রায় ৩ হাজার আর সাথে একগাদা হল ডিউজ। সময় দেয় ৫ দিন।

একটা মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির স্ট্যুডেন্টের পক্ষে এতগুলো টাকা ৫ দিনে পরিশোধ করা কি আসলেই সম্ভব? এদিকে শেষ ২ দিন সব জায়গা থেকে সাইন করতে করতেই চলে যায়।

যে ছেলেটার ঘরের চাল ভেঙে পড়তেছিল সে ছেলেটারও প্রতি মাসে মেস ভাড়া, খাবার খরচ, আর হল থেকে সামান্য কোনো উপকার না পেলেও হল ডিউজ ঠিকই পরিশোধ করতে হত। যে ছেলেটার কাধে এত দায়িত্ব ছিল সে ছেলেটা হল ডিউজের প্যারায় জীবনটাই দিয়ে দিল।

সবাই বলে আত্মহত্যা, আমি তো দেখি খুন। ওর বাসায় যেয়ে ওর বাড়ির পুরোনো চালগুলো দেখলাম। ওর মা আর ছোট বোনটার আহাজারি দেখলাম। আমরা না হয় আজ ফেসবুকে লেখালিখি করবো, আফসোস করবো, কিছু দিন কষ্ট পাবো, তারপর আস্তে আস্তে সব ভুলেই যাবো।

কিন্তু কুয়েটের ওই ছেলেটার বাবা-মাকে কে দেখবে? ওর বোনটাকে কে বিয়ে দেবে? ওদের বাড়িটা কে ঠিক করবে? এতদূর এসে ছেলেটা জীবনের প্রতি তীব্র ঘৃণা নিয়ে মরে গেল। অন্তু নেই। [ফেসবুক থেকে সংগৃহীত]

লেখক: শিক্ষার্থী, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, কুয়েট


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.