নিউজ ডেস্ক।।
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিশেষ করে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সঙ্কুচিত হয়ে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় কমিশন। আসন্ন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশ যৌথ কমিশনের বৈঠকে এই উদ্বেগের বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র্যাব) ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভান স্তেফানিৎসের চিঠির জবাবে ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টিটিভ জোসেফ বোরেল এসব কথা বলেছেন।
স্লোভাকিয়ার নাগরিক স্তেফানিৎস ইউরোপীয় পার্লামেন্টে মানবাধিকারবিষয়ক সাব-কমিটির একজন সদস্য। র্যাব ও এর সাবেক-বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ৪০ দিন পর বাহিনীটির বিরুদ্ধে একই রকমের ব্যবস্থা চেয়ে জোসেফ বোরেল বরাবর চিঠি লেখেন স্তেফানিৎস। গত শুক্রবার এই চিঠির জবাব দেন জোসেফ বোরেল। চিঠির জবাবে র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কিছু উল্লেখ করে না করে তিনি বলেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতায় ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে স্লোভাকিয়ার এই পর্লামেন্ট সদস্য চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘কয়েক বছর ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কারণে আরোপ করা হয়েছে ওই নিষেধাজ্ঞা, বিশেষ করে ২০১৮ সালে টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হককে হত্যার ঘটনায়।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে র্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। ওই সময় ঢাকায় ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেছিলেন, ওই চিঠি ইইউ পার্লামেন্ট সদস্যের ‘ব্যক্তিগত’।
সাত শতাধিক এমপির মধ্যে একজনের এমন চিঠিতে ‘বিস্ময়ের’ কিছু নেই। চিঠির লেখায় তার জবাব স্তেফানিৎস পাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন কোনো চিঠি পাই, তখন ভালো প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে আমাদের চর্চা হলো ওই চিঠির উত্তর দেয়া। ফলে আমি নিশ্চিত উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পার্লামেন্ট সদস্যের ওই চিঠির উত্তর দেবেন।’ বিষয়বস্তু ভালো মতো না পড়েই স্লোভাকিয়ার এই পার্লামেন্ট সদস্য চিঠিতে সই করে দিয়েছেন বলে মন্তব্য তখন করেছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন।
তিনি এর সাথে আর্থিক লেনদেনের সংযোগ থাকতে পারে বলেও অভিযোগ তোলেন। ১৮ মার্চ ওই চিঠির জবাব স্তেফানিৎসকে দিয়েছেন জোসেফ বোরেল। চিঠির জবাবের সূচনায় বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কয়েকটি চিত্র তুলে ধরে ইইউর সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরেন জোসেফ বোরেল। পাশাপাশি ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায়’ বাংলাদেশের অবদান রাখার প্রসঙ্গ টানেন তিনি। জোসেফ বোরেল লিখেছেন, ‘এমন উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সত্ত্বেও, দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বিশেষ করে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সঙ্কোচনের ক্ষেত্রে। জাতিসঙ্ঘের কমিটি এগেইনেস্ট টর্চার (সিএটি) ও জাতিঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারসহ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নিরাপত্তার বাহিনীর ব্যাপক আকারের নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন।’ তিনি বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম বড় রকমের উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে এবং এক্ষেত্রে বিস্তৃত ও চূড়ান্ত তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া ডিজিটাল মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।
এই আইনকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার যে সরকার ইঙ্গিত সরকার দিয়েছে, আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই।’ স্তেফানিৎসকে আশ্বস্ত করে জোসেফ বোরেল বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব দিকের পাশাপাশি মানবাধিকার বিষয় আমাদের এজেন্ডা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে সার্বক্ষণিক সংলাপের মধ্যে রয়েছি আমরা। আসন্ন ইউ-বাংলাদেশ জয়েন্ট কমিশন এবং সাবগ্রুপ অন গুড গভর্নেন্স অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস এসব বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার উল্লেখযোগ্য জায়গা হবে।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
