এইমাত্র পাওয়া

রাজধানীর আরো ৩ রুটে ঢাকা নগর পরিবহন

নিউজ ডেস্ক।।

ঘাটারচর-কাঁচপুর যাত্রাপথে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা ‘ঢাকা নগর পরিবহন’-এর অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন করে আরো তিন যাত্রাপথে নগর পরিবহন চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ও বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। নতুন তিনটি রুটের মধ্যে ২২ নম্বর রুটে ৫০টি, ২৩ নম্বর রুটে ১০০টি ও ২৬ নম্বর রুটে ৭৫টি বাস নামানো হবে। এর মধ্যে ২২ নম্বর রুটটি হলো ঘাটারচর থেকে বছিলা, মোহাম্মদপুর টাউন হল, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, শাহবাগ হয়ে সুলতানা কামাল সেতু পর্যন্ত। ২৩ নম্বর রুট হচ্ছে বছিলা থেকে মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ, শ্যামলী, কমলাপুর হয়ে কাঁচপুর পর্যন্ত। আর ২৬ নম্বর রুট হলো ঘাটারচর থেকে পলাশী মোড়, পোস্তগোলা হয়ে কদমতলী পর্যন্ত। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রস্তুতিমূলক সব কাজ শেষ করা হবে।

তবে কবে নাগাদ এসব বাস রাস্তায় নামবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। গতকাল ডিএসসিসির নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে বাস-রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ২২তম সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ঢাকা নগর পরিবহনে যাত্রীসেবাই আমাদের মূল প্রাধান্য। যাত্রীরা খুবই আনন্দিত। তাদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় না। হয়রানির শিকার হতে হয় না। নির্দিষ্ট জায়গায় থেকে উঠতে পারে আবার নির্দিষ্ট জায়গায় নামতে পারে। ঢাকাবাসীর এ আকাক্সক্ষা আমরা পূরণ করতে পেরেছি। সে জন্য আমরা আনন্দিত। এখন এ অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা বাকি তিনটি যাত্রাপথে ঢাকা নগর পরিবহন চালু করব।

কিন্তু এটি তখনই পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হবে যখন আমরা সব যাত্রাপথকে একসাথে নিয়ে একক কোম্পানি করে ‘ঢাকা নগর পরিবহন কোম্পানি’ হিসেবে পরিচালিত করতে পারব। পরীক্ষামূলক যাত্রাপথে নগর পরিবহন সফল বলে মন্তব্য করে মেয়র বলেন, এটা অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে, প্রশংসিত হয়েছে। যাত্রীরা সাদরে গ্রহণ করেছেন। ঢাকাবাসী সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং যাত্রীসেবার মান অত্যন্ত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু একটি চাহিদা রয়েছে-আমরা যে ৫০টি বাস দিয়ে চালু করেছি, সেটা বৃদ্ধি করার জন্য যাত্রীরা উৎসুক হয়ে আছেন।

আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিÑ ট্রান্সসিলভা আরো ২০টি বাস চালু করতে পারবে। বিগত সভায় যে তিনটি যাত্রাপথ চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সেগুলো আরো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে জানিয়ে তাপস বলেন, সেই তিনটি যাত্রাপথ চালু করার লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রমগুলো আমরা পর্যালোচনা করেছি এবং সার্বিক পর্যালোচনায় যাত্রাপথগুলোকে আরেকটু সুনির্দিষ্ট করেছি। আমরা ঢাকার প্রান্ত পর্যন্তই সেই যাত্রাপথকে বিস্তৃত রাখব। এ তিন যাত্রাপথে ২২৫টি বাস নতুন করে নামবে। চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও ঘাটারচরের টার্মিনাল ও ডিপো নির্মাণে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন উদ্যোগ গ্রহণ করবে জানিয়ে শেখ তাপস বলেন, এ পাঁচটি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য এখন থেকে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন তাদের নিজ নিজ টার্মিনাল নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নিবে। অন্যান্য সংস্থা থেকে অনাপত্তি, জমি অধিগ্রহণসহ এ সংক্রান্ত কার্যক্রম আমরা দুই সিটি করপোরেশন দায়িত্ব নিবো এবং কার্যক্রম আরম্ভ করব যাতে দ্রুত টার্মিনালগুলো নির্মাণ করা যায়।

এ সময় আনিসুল হকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঢাকাবাসী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, যদিও এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অত্যন্ত দুরূহ ছিল। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম বলেন, বাসরুট রেশনালাইজেশন আওতায় শহরের রুট যেগুলো আছে সেগুলোতে কিভাবে দ্রুত বাসসেবা দেয়া যায় সে ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে গণপরিবহনের মান ও সেবার উন্নয়নে আমরা আরো বেশি নজর দিচ্ছি। ঢাকার দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের বাহন বাস উল্লেখ করে আতিকুল ইসলাম বলেন, সমীক্ষায় দেখা গেছে ঢাকা শহরের ৬২ শতাংশ মানুষ বাস সার্ভিস সেবার ওপর নির্ভর করে। তাই বাসসেবা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে ট্রাফিক সিস্টেমের বড় পরিবর্তন আসবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো: তাজুল ইসলাম, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন, রাজউক সদস্য মো: শফিকুল হক, বিআরটিএর পরিচালক শীতার্ত শেখর বিশ্বাস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আফজাল উদ্দিন আহমেদসহ কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.