নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দেশের এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বদলির আদেশ বাতিল করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। গত সপ্তাহে একাধিক আদেশের ৪৮৩ জন শিক্ষকের বদলির আদেশ বাতিল হলো। ফলে যে শিক্ষক যে বিদ্যালয়ে ছিলেন, তিনি সেখানেই থাকবেন।
আজ বুধবার মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর নেহাল আহমেদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
সাধারণত শিক্ষকদের নিজ এলাকার কাছাকাছি পদায়ন করা হয়। তবে কোনো অভিযোগ থাকলে কখনো কখনো সরকারি চাকরিজীবীদের দূরবর্তী স্থানে বদলি করার উদাহরণ আছে।
কিন্তু মাধ্যমিকের ওই শিক্ষকদের বদলি কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়নি। ফলে এমন বদলি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
শুধুমাত্র উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ১৪৩ জন শিক্ষককে বান্দরবান, রাঙামাটি, ভোলা, নোয়াখালীর হাতিয়া, বরগুনাসহ দুর্গম এলাকায় বদলি করা হয়।
জানা যায়, সম্প্রতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২ হাজার ৬৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের অধিকাংশের পদায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাজধানী ও জেলা শহরে পদায়ন দিয়েছে।
অথচ ১৯৯৪ সালে জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের প্রথমে উপজেলা বা থানা পর্যায়ে নিয়োগ দিতে হবে। এরপর জেলায় নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে পুরোনো ও বিভাগীয় শহরেও নিয়োগের সুযোগ আছে।
পরিপত্র পুরোপুরি না মেনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে নামীদামি স্কুলে পদায়ন দেওয়ায় অনেক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত পদের চেয়ে জনবল বেশি হয়ে গেছে। এ কারণে নতুন শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পেতে সমস্যা হচ্ছিল। শিক্ষা প্রশাসনের সহজ সমাধান হিসেবে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ঢালাওভাবে দেশের দূরবর্তী অঞ্চলে বদলি করেছে। কিন্তু এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলে সেই বদলির আদেশ বাতিল করা হল।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
